খেলা ঘোরাতে এক ফোনেই কামাল মমতার! ভাঙন রুখতে মরিয়া তৃণমূল নেত্রী – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2024/12/28/IvyxiUKwW35RDShyDI3F.jpg)
এবেলা ডেস্কঃ
দলের অন্দরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন সংকট সামাল দিতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, বিধানসভায় পরিষদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ বিধায়কদের মান ভাঙাতে নিজেই ফোন করা শুরু করেছেন তিনি। একদা দলের একচ্ছত্র নেত্রীর এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
নেপথ্যের কারণ ও বিদ্রোহীদের তৎপরতা
দলের ভেতরের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং নেতৃত্বের একাংশের প্রতি অসন্তোষের জেরেই ৫৮ জন বিধায়ক একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক বিধায়ক হাতছাড়া হলে বিধানসভায় শাসকদল বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছেন, অন্যদিকে তখন বিরোধী কক্ষে দীর্ঘ বৈঠক সেরেছেন বিক্ষুব্ধ শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আখরুজ্জমানরা। তবে দলীয় প্রধানের ফোন পাওয়ার বিষয়টি কৌশলগত কারণেই এখন পর্যন্ত কোনো বিদ্রোহী বিধায়ক প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সক্রিয়তা প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংগীন। দলনেত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের একটি বড় অংশ আবার শাসক শিবিরের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে, যা সাময়িকভাবে সরকারের ওপর নেমে আসা পতন-আশঙ্কাকে রুখে দেবে। তবে এর বিপরীতে, বিদ্রোহীরা যদি নিজেদের দাবিতে অনড় থাকে, তবে তা রাজ্যের শাসকদলের চূড়ান্ত ভাঙন ত্বরান্বিত করবে এবং বিধানসভায় নতুন কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণ বা সমীকরণ তৈরি করবে। সব মিলিয়ে, দলনেত্রীর এই ‘এক ফোন’ কৌশল কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে তৃণমূলের আগামী দিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
