খোকাবাবু ডিজে বাজিয়ে ধরা পড়েছে, দিদি-অভিষেককে বেনজির আক্রমণ অধীর চৌধুরীর! – এবেলা

খোকাবাবু ডিজে বাজিয়ে ধরা পড়েছে, দিদি-অভিষেককে বেনজির আক্রমণ অধীর চৌধুরীর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলার ক্ষমতাচ্যুত শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন ভাঙন এবং নেতৃত্বের কোন্দল চরমে, ঠিক তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সম্প্রতি কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষদের মতো প্রথম সারির নেতারা এনসিপি-তে (NCPI) যোগ দেওয়ার পর তৃণমূলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই আবহে এক সাংবাদিক বৈঠকে অধীর চৌধুরী স্পষ্ট জানান, রাজ্যে এখন ‘ঢপের কীর্তন’ চলছে এবং মানুষের আসল সমস্যাগুলো থেকে নজর ঘোরাতেই এই নাটকের অবতারণা।

তৃণমূলের অন্দরের ‘নাটক’ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা

তৃণমূলের সাম্প্রতিক কোন্দল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে দলের একাংশের অসন্তোষকে সম্পূর্ণ নাটক বলে অভিহিত করেছেন অধীর চৌধুরী। তাঁর মতে, যারা খোকাবাবুর (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) জন্য দলের মান-ইজ্জত গেছে বলে দাবি করছেন, তাঁরা আসলে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করতে চাইছেন। এই নেতারা ঘুরিয়ে আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনেই রাজনীতি করার রাস্তা খুঁজছেন। বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পাওয়ার জন্য কোনো আবেদন করা হবে না উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এই নেতারা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলছেন না যে খোকাবাবুকে সরিয়ে তাঁদের নেতৃত্ব দেওয়া হোক?

পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি এবং সিআইডি-র ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন এই কংগ্রেস নেতা। সাড়ে ৯ ঘণ্টা জেরার পরও কেন কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এরা মারছে কম, ছুট করাচ্ছে বেশি। সবাই দুর্নীতির কথা জানলেও ইডি-সিআইডি যেন কিছুই জানে না।”

রবীন্দ্রসংগীত বনাম ডিজে বাজিয়ে চুরি

তৃণমূল জমানার দুর্নীতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘চোরের সর্দার’ বলে আখ্যা দেন। অতীতে ও বর্তমানের চুরির ধরনের তুলনা টেনে তিনি এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। অধীরবাবুর দাবি, “এই সরকারের সবথেকে বড় চোরের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফারাকটা হলো, দিদি অনেক নিপুণভাবে রবীন্দ্রসংগীত বাজিয়ে চুরি করেছেন, আর খোকাবাবু ডিজে বাজিয়ে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে গেছেন।”

জনগণের মূল সমস্যা ও বহরমপুর প্রসঙ্গ

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোলের কারণে সাধারণ মানুষের মূল সমস্যাগুলো আড়ালে চলে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অধীর চৌধুরী। তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যে পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, সারের হাহাকার শুরু হয়েছে এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অগ্নিমূল্যের কারণে মানুষের রোজগার কমে গেছে। অথচ সবাই দিদি আর খোকাবাবু কোন দিকে যাচ্ছেন, তা নিয়েই ব্যস্ত।

একই সাথে বিজেপির সাথে তৃণমূলের গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুলে তিনি বহরমপুর পৌরসভার প্রসঙ্গ টানেন। রাজ্যের প্রায় সব পৌরসভায় দুর্নীতি ধরা পড়লেও বহরমপুর কেন ছাড় পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। অধীরবাবুর অভিযোগ, বহরমপুরের বিজেপি নেতা এবং বিদায়ী শাসকদলের নেতারা মিলেমিশে এই পৌরসভাকে লুট করে চলেছেন। সবশেষে, মমতার কংগ্রেসে যাওয়ার জল্পনা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “হুকে পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে। এখন পরিস্থিতি খারাপ বলেই হয়তো কংগ্রেসের কথা মনে পড়ছে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *