গঙ্গার গ্রাসে ভিটেমাটি! বিপদসীমা পেরোতেই নদীর পেটে ৭টি বাড়ি, মালদায় চরম আতঙ্ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 2, 202612:33 pm
মালদা: পাহাড়ি এলাকা ও উত্তর ভারতে টানা বৃষ্টি এবং বরফ গলা জলের প্রভাবে ফের ভয়াল রূপ নিয়েছে গঙ্গা নদী। মানিকচক ঘাটে নদীর জলস্তর ২৫.৩০ মিটার ছাড়িয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করতেই মালদা জুড়ে জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা। জল বাড়ার পাশাপাশি নদীপারের বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন।
সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের পারদেওনাপুর শোভাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোলাপ মণ্ডল পাড়ায়। চোখের নিমেষে গঙ্গার তীব্র স্রোতে তলিয়ে গিয়েছে স্থানীয় ৭টি বসতবাড়ি। ভিটেমাটি হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ভাঙনকবলিত বাসিন্দারা। ঘটনার খবর পেয়েই দুর্গত এলাকায় পৌঁছান স্থানীয় বিধায়ক রাজু কর্মকার ও বিডিও বাপি হালদার। প্রশাসন ও সেচ দফতরের প্রকৌশলীদের মধ্যে জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
অন্য দিকে, মানিকচকের গোপালপুর ও ইংরেজবাজারের খাসকোল এলাকায় ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল, সেচ দফতরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার শুভঙ্কর গুড়িয়া এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক অনিন্দ্য সরকার। খাসকোল এলাকায় ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে প্রায় ৪৮টি পরিবার খাসকোল হাইস্কুলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের হাতে শুকনো খাবার, মশারি ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দিয়েছে প্রশাসন।
কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের পঞ্চানন্দপুরেও নদীপারের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন অতিরিক্ত জেলাশাসক সপ্তর্ষি নাগসহ অন্যান্য আধিকারিকরা। নদীপারের মানুষদের জরুরি কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেচ দফতর জানিয়েছে, নদীর জল আপাতত কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সামনে তা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙন রুখতে সাময়িকভাবে বালির বস্তা ফেলে প্রতিরোধের কাজ শুরু হলেও পুরো এলাকাজুড়ে এখন শুধুই গৃহহারা মানুষের হাহাকার ও চরম আতঙ্ক।
