গণনায় কেন্দ্রীয় কর্মী কেন? সুপ্রিম কোর্টে মমতা বনাম নির্বাচন কমিশন, আজই ভাগ্য নির্ধারণ!

গণনায় কেন্দ্রীয় কর্মী কেন? সুপ্রিম কোর্টে মমতা বনাম নির্বাচন কমিশন, আজই ভাগ্য নির্ধারণ!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফলাফল ঘোষণার প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। গণনাকেন্দ্রে মাইক্রো-অবজারভার হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার (PSU) কর্মীদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই নতুন নিয়মকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস। আজ বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চে এই মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও নিরপেক্ষতার প্রশ্ন

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান অভিযোগ হলো, গণনাকেন্দ্রে রাজ্য সরকারি কর্মীদের পরিবর্তে কেবল কেন্দ্রীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর অবিশ্বাসের নামান্তর। এছাড়া নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এই নিয়ম পরিবর্তন স্বচ্ছতা বজায় রাখার বদলে গণনায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বলে মনে করছে শাসক দল। তৃণমূলের দশ দফা যুক্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অজ্ঞাত কেন্দ্রীয় কর্মীরা গণনায় ত্রুটি ঘটাতে পারেন।

কমিশনের অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্তে অনড়। কমিশনের মতে, কোনো প্রকার স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা সম্পন্ন করতেই কেন্দ্রীয় কর্মীদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সুপ্রিম কোর্ট যদি কমিশনের পক্ষে রায় দেয়, তবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সম্পূর্ণ নতুন নিয়মে গণণা করা হবে। আর যদি আদালত তৃণমূলের আবেদনে সাড়া দিয়ে স্থগিতাদেশ দেয়, তবে কমিশনকে পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে রাজ্যের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ।

এক ঝলকে

  • গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকারি ও পিএসইউ কর্মীদের মাইক্রো-অবজারভার নিয়োগের নতুন নিয়ম দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
  • কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এই নিয়মকে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর লঙ্ঘন ও রাজ্য কর্মীদের অপমান হিসেবে দেখছে।
  • আজ বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চ এই বিষয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *