গণনার শুরুতেই তৃণমূলের ‘মনস্তাত্ত্বিক লিড’ বনাম বিজেপির সংযম, তুঙ্গে স্নায়ুর লড়াই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাহেন্দ্রক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। সোমবারের মহাগণনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরই এখন রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত। একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম দিকেই লিড নিয়ে বিরোধীদের হতোদ্যম করার কৌশল নিয়েছে, অন্যদিকে বিজেপি তার পাল্টা হিসেবে দলীয় এজেন্টদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে টিকে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
তৃণমূলের ‘সংখ্যালঘু অঞ্চল’ কার্ড ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশল
রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তৃণমূল একটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। সূত্রের খবর, গণনার শুরুতেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলের ইভিএম (EVM) আগে খোলার চেষ্টা করা হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু ভোট বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। গণনার প্রথম কয়েক রাউন্ডে যদি শাসক দল বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায়, তবে বিরোধী শিবিরের এজেন্টদের মনোবল ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তৃণমূলের লক্ষ্য হলো, শুরুতেই বড় লিড দেখিয়ে বিজেপি এজেন্টদের মধ্যে হতাশা তৈরি করা, যাতে তারা গণনা কেন্দ্র ছেড়ে চলে যায় বা মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়ে।
বিজেপির পাল্টা প্রতিরোধ ও শমীকের বার্তা
শাসক দলের এই কৌশলের কথা মাথায় রেখে বিজেপিও সতর্ক। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই দলীয় কর্মীদের প্ররোচনায় পা না দিয়ে গণনাকেন্দ্রে এক ইঞ্চি জমি না ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিজেপির রণকৌশল হলো, ফল যাই হোক না কেন, প্রতিটি রাউন্ডের শেষে লড়াই চালিয়ে যাওয়া। শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, এবার গণনা কেন্দ্রে কোনো গুন্ডামি বা গন্ডগোল বরদাস্ত করা হবে না। তিনি দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার পাশাপাশি জয়ের ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।
নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতায় কমিশনের কড়া নজর
গণনা প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ধরণের কারচুপি বা অশান্তি না হয়, তার জন্য এবার নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন কড়াকড়ি করেছে। ৭৭টি গণনা কেন্দ্রেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা থাকবে। এছাড়া, গতবারের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার গণনার তথ্য প্রচারে সরকারি তথ্য আধিকারিকদের বদলে ডব্লিউবিসিএস (WBCS) পদমর্যাদার অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছে। ফলতায় পুনর্নির্বাচনের ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন বাকি ২৯৩টি আসনের গণনা প্রক্রিয়াকে নিশ্ছিদ্র ও স্বচ্ছ রাখতে বদ্ধপরিকর। সোমবারের এই ‘স্নায়ুর যুদ্ধে’ শেষ হাসি কে হাসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
