গরমের ছুটি ফুরালেও খোলেনি দরজা, রাজ্যের ১৬৫টি স্কুল এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কবলে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর গরমের ছুটি কাটিয়ে গত ১ জুন থেকে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুনরায় পঠন-পাঠন শুরু হয়েছে। তবে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (ডি.আই.) সাম্প্রতিক রিপোর্টে এক উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। জানা গেছে, রাজ্যের ১৬৫টি বিদ্যালয় এখনও কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনীর দখলে রয়েছে। স্কুল প্রাঙ্গণ জুড়ে বাহিনীর ক্যাম্প সচল থাকায় ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে ফেরা এবং স্বাভাবিক পড়াশোনা চালানো সম্পূর্ণ ব্যাহত হচ্ছে।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও বিকল্প ব্যবস্থার নির্দেশ
শিক্ষা ব্যবস্থার এই অচলাবস্থা নিরসনে গত ১০ জুন, ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছেন। সমস্ত জেলার জেলা শাসক এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে পাঠানো এই সরকারি চিঠিতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। একই সাথে, তাদের থাকার জন্য অবিলম্বে কোনও অ-শিক্ষামূলক বা বিকল্প স্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ে দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদেরও স্ব-স্ব জেলার জেলা শাসকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক বন্ধ স্কুলের পরিসংখ্যান
সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্যাম্প থাকার কারণে প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের এই ১৬৫টি স্কুল ছুটির পর আর খোলাই সম্ভব হয়নি। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থা দক্ষিণ ২৪ পরগনায়, যেখানে সর্বোচ্চ ৩৫টি স্কুল বন্ধ রয়েছে। এর পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা, যেখানে ২৫টি স্কুল এখনও বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া মুর্শিদাবাদে ১৪টি, কোচবিহারে ৯টি, পশ্চিম বর্ধমানে ৮টি এবং ব্যারাকপুর ও বীরভূমে ৭টি করে স্কুল এই তালিকায় স্থান পেয়েছে।
রাজ্যের রাজধানী কলকাতাতেও ৩টি প্রাথমিক স্কুলসহ মোট ৯টি বিদ্যালয় এখনও বন্ধ রয়েছে, যার মধ্যে কাশবাগান গার্লস হাই স্কুল, চৌবাগা হাই স্কুল এবং ব্রিজি এ টি নস্কর হাই স্কুলের মতো পরিচিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তালিকায় থাকা অন্যান্য জেলার মধ্যে হুগলিতে ৬টি, নদিয়া, উত্তর দিনাজপুর ও জলপাইগুড়িতে ৫টি করে এবং পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়াতে ৪টি করে স্কুল রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ দিনাজপুরে ১টি ও শিলিগুড়িতে ১টি স্কুল বন্ধ থাকলেও আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, মালদা, কালিম্পং এবং ঝাড়গ্রামে কোনও স্কুল বন্ধ থাকার খবর মেলেনি। পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ ও প্রাতিষ্ঠানিক পঠন-পাঠনের স্বার্থে এই স্থবিরতা কাটাতে রাজ্য প্রশাসন বর্তমানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
