গর্ভবতী মহিলার বুকের ওপর বসে পেট চেপে ধরলেন নার্স, নার্সিংহোমের অমানবিকতা কেড়ে নিল নবজাতকের প্রাণ! – এবেলা

গর্ভবতী মহিলার বুকের ওপর বসে পেট চেপে ধরলেন নার্স, নার্সিংহোমের অমানবিকতা কেড়ে নিল নবজাতকের প্রাণ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তরপ্রদেশের বদায়ূঁ জেলার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসার নামে চরম নৃশংসতার অভিযোগ উঠেছে। প্রসব বেদনা নিয়ে আসা এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার বুকের ওপর বসে পেট চেপে ধরে প্রসব করানোর চেষ্টা করেন নার্সিংহোম কর্মীরা। এই অবৈজ্ঞানিক ও অমানवीय পদ্ধতির কারণে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরেই মৃত্যু হয় নবজাতকের। ঘটনাটি জানাজানি হতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা, অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে সরব হন স্বজনরা।

সরকারি যোগসাজশ ও দুর্নীতির অভিযোগ

কাদেরচক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ও কর্মীদের যোগসাজশে প্রসূতিকে একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি নার্সিংহোমে রেফার করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরিষেবা না দিয়ে কমিশনের লোভে ওই মহিলাকে রাধিকা নার্সিংহোমে পাঠানো হয়। সেখানে ভর্তির পরেই মোটা টাকা দাবি করা হয় এবং চিকিৎসা প্রটোকল লঙ্ঘন করে প্রশিক্ষণহীন কর্মীরা প্রসব প্রক্রিয়া শুরু করেন।

শবাধার আটকে টাকা দাবি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

সন্তানের মৃত্যুর পর শোকার্ত পরিবারের কাছ থেকে বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য নবজাতকের দেহ আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি টাকা না দিলে প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে জেলা প্রশাসন দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সিএমও জানিয়েছেন, ওই নার্সিংহোমে কোনো বৈধ ডাক্তার ছিলেন না। অভিযুক্ত সরকারি চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছে এবং নার্সিংহোমটি সিল করে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার ফলে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে চলা অশুভ আঁতাত এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার কঙ্কালসার দশা পুনরায় প্রকাশ্যে এসেছে। সঠিক নজরদারির অভাবে সাধারণ মানুষকে প্রাণ দিয়ে এই অব্যবস্থার মাশুল গুনতে হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এক ঝলকে

  • প্রসবের সময় প্রসূতির বুকের ওপর বসে পেট চেপে ধরার অমানवीय পদ্ধতিতে নবজাতকের মৃত্যু।
  • মৃত শিশুর দেহ আটকে রেখে পরিবারের কাছে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ।
  • সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকের সঙ্গে যোগসাজশে নার্সিংহোম চালানোর জেরে ক্ষোভ।
  • নার্সিংহোম সিল করে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *