গাছ বাঁচাতে এবার এসির ফেলে দেওয়া জল! সত্যিটা জানলে আর অপচয় করবেন না – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 14, 20269:33 am
গ্রীষ্মের দাবদাহে বাড়ি ঠান্ডা রাখতে এসি এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী। আর এসির একটানা ব্যবহারে বাইরে বেরিয়ে আসা পাইপের জল আমরা অনেকেই ময়লা বা অব্যবহারযোগ্য ভেবে ড্রেনে ফেলে দিই। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এসির এই ফেলে দেওয়া জল হয়ে উঠতে পারে আপনার শখের বাগানের সেরা টনিক।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এসির জল এসি যখন ঘরের গরম বাতাস টেনে ঠান্ডা করে, তখন বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্প ঠান্ডা কয়েলের সংস্পর্শে এসে ঘনীভূত হয়ে জলে পরিণত হয়। একে কনডেনসেট ওয়াটার বা ঘনীভূত জল বলা হয়, যা আদতে বৃষ্টির জলের মতোই বিশুদ্ধ এবং ডিস্টিলড ওয়াটারের সমতুল্য। সাধারণ টিউবওয়েল বা পৌরসভার জলে ক্লোরিন, ফ্লোরাইড এবং অতিরিক্ত লবণ থাকে, যা টবের মাটিতে জমতে জমতে মাটিকে শক্ত করে দেয় এবং শিকড়ের ক্ষতি করে। এর বিপরীতে এসির জলে কোনো ক্ষতিকারক রাসায়নিক বা খনিজ না থাকায় এটি গাছের জন্য অত্যন্ত নরম ও নিরাপদ।
সরাসরি ব্যবহারে গাছের মারাত্মক ক্ষতি এসির জল খাঁটি হলেও তা সরাসরি গাছে ঢাললে হিতে বিপরীত হতে পারে। এর পেছনে প্রধানত দুটি বড় কারণ রয়েছে:
- থার্মাল শক বা তাপমাত্রার তারতম্য: এসি থেকে বের হওয়া জল অত্যন্ত ঠান্ডা থাকে। বরফশীতল এই জল সরাসরি গাছের গোড়ায় ঢেলে দিলে গাছ হঠাৎ তাপমাত্রার ধাক্কায় বা ‘শক’ পায়। এর ফলে গাছের বৃদ্ধি থেমে যায় এবং পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়তে পারে।
- ফিল্টারের পরিচ্ছন্নতা: এসির ভেতরের ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করা হলে তাতে জমে থাকা ধুলোবালি, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জলের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। সেই দূষিত জল গাছে দিলে মাটিতে ফাঙ্গাল ইনফেকশন দেখা দিতে পারে এবং শিকড় পচে যেতে পারে।
ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ও কার্যকারিতা এসির জল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিশেষ সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। জল সরাসরি গাছে না দিয়ে প্রথমে একটি বালতিতে জমিয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা রেখে দিন, যাতে তা স্বাভাবিক তাপমাত্রার ঘরে ফেরে। এছাড়া এসি নিয়মিত সার্ভিসিং করানো ও ফিল্টার পরিষ্কার রাখা আবশ্যক।
মনে রাখতে হবে, এসির জলে গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ বা খনিজ থাকে না। তাই শুধুমাত্র এই জল দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে গাছ অপুষ্টিতে ভুগতে পারে। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, সপ্তাহে দু’দিন এসির জল এবং বাকি দিনগুলোতে সাধারণ জল ব্যবহার করা এবং মাসে অন্তত একবার জৈব সার প্রয়োগ করা। বিশেষ করে মানি প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, অ্যারিকা পাম এবং পিস লিলির মতো ইনডোর গাছের জন্য এই পদ্ধতি দারুণ কার্যকরী।
