গুটকা ছাড়তে চান? প্রাণঘাতী নেশা থেকে মুক্তির সহজ পথ বাতলালেন বাবা রামদেব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতে দ্রুত হারে বাড়ছে গুটকা সেবনকারীর সংখ্যা। এটি শুধু দাঁতের সৌন্দর্যই নষ্ট করে না, বরং মুখ, গলা ও শ্বাসনালীর ক্যানসারের মতো ভয়াবহ রোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গুটকার নেশা একবার রক্তে মিশে গেলে তা ছাড়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এই মরণব্যাধি থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে যোগগুরু বাবা রামদেব বেশ কিছু বিশেষ যোগাসন ও প্রাকৃতিক প্রতিকারের পরামর্শ দিয়েছেন।
মানসিক দৃঢ়তা ও যোগাভ্যাস
বাবা রামদেবের মতে, নেশা ত্যাগের জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে জরুরি। তিনি ‘কাটিচক্রাসন’ ও ‘সূর্য নমস্কার’ করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। সূর্য নমস্কার শরীরের শক্তির মাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি তামাকের তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ‘ভুজঙ্গাসন’ বা কোবরা পোজ ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মানসিক চাপ কমিয়ে শরীরকে বিষমুক্ত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ব্যায়াম ও দৌড়ঝাঁপ করলে শরীরে ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসৃত হয়, যা ক্ষতিকর নেশার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেয়।
আয়ুর্বেদিক উপায়ে শরীরকে বিষমুক্ত করা
শারীরিক কসরতের পাশাপাশি বাবা রামদেব কিছু ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রতিদিন জোয়ানের জল (ক্যারম সিড ওয়াটার) পান করলে শরীরের ভেতর জমে থাকা টক্সিন বেরিয়ে যায় এবং খিদে নিয়ন্ত্রিত থাকে। নেশা ছাড়ার সময় শরীরে যে ধকল পড়ে, তা সামলাতে পুরুষদের জন্য ‘অশ্বগন্ধারিষ্ট’ এবং মহিলাদের জন্য ‘অশোকারিষ্ট’ নামক আয়ুর্বেদিক টনিক সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এই প্রাকৃতিক উপায়গুলো স্নায়বিক উত্তেজনা প্রশমিত করে দীর্ঘদিনের পুরনো নেশা ছাড়াতে সহায়ক হয়।
এক ঝলকে
- নিয়মিত সূর্য নমস্কার ও ভুজঙ্গাসন গুটকার প্রতি শারীরিক আকর্ষণ ও মানসিক চাপ কমায়।
- প্রতিদিন জোয়ানের জল পান করলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন দ্রুত দূর হয়।
- নেশা ছাড়ার পরবর্তী শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে অশ্বগন্ধারিষ্ট বা অশোকারিষ্টের মতো আয়ুর্বেদিক টনিক অত্যন্ত কার্যকর।
- দৌড়ানো বা খেলাধুলার মাধ্যমে শরীরে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে নেশার ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।
