গ্রাহকের পকেটে টান, মেটার নতুন চালের নেপথ্যে কী গভীর সংকট? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য পেইড বা ‘প্লাস ফিচার্স’ নিয়ে আসার পথে হাঁটছে। দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পর হঠাতই মেটার এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি গ্রাহকদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রচেষ্টা মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে গভীর ব্যবসায়িক কৌশল ও প্রবল প্রাতিষ্ঠানিক চাপ।
আয়ের উৎসে টান ও কনটেন্ট বিতর্ক
এতদিন মেটার আয়ের মূল উৎসই ছিল বিজ্ঞাপন। এই বিজ্ঞাপনী আয়ের একটি বড় অংশ প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পেছনে খরচ করত মেটা। কিন্তু বেশি আয়ের আশায় অনেক ক্রিয়েটরই আপত্তিকর ও চটকদার কনটেন্ট তৈরিতে মেতে ওঠেন। এই প্রবণতা বিশ্বজুড়ে মেটাকে চরম সমালোচনার মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকার ইতিমধেই ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষা এবং আপত্তিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনি কড়াকড়ি শুরু করেছে। ফলে বিজ্ঞাপনী আয়ের চেনা ছকে বড় ধাক্কা খেয়েছে মেটা।
লগ্নিকারীদের চাপ এবং এআই প্রযুক্তির বিপুল খরচ
মেটার এই নতুন রূপান্তরের পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির পেছনে আকাশছোঁয়া বিনিয়োগ। চ্যাটজিপিটি বা গুগলের মতো প্রতিদ্বন্দীদের সঙ্গে টেক্কা দিতে মার্ক জুকেরবার্গের সংস্থা এআই এবং বিশাল ডেটা সেন্টার তৈরিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ লগ্নি করেছে। তবে এই বিপুল খরচের বিপরীতে এখনই বড় অঙ্কের লাভ ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। ফলস্বরূপ, লগ্নিকারীদের পক্ষ থেকে মুনাফা বাড়ানোর জন্য মেটার ওপর প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে।
এই বহুমুখী সংকট থেকে বাঁচতেই মেটা এখন আর শুধু বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাইছে না। আয়ের নতুন ও স্থায়ী উৎস হিসেবেই সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পেইড ‘প্লাস ফিচার্স’ আনার এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেটা প্রশাসন। এর ফলে আগামী দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অনেকটাই বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
