গ্রীষ্মেও রাস্তায় ড্রেনের নোংরা জল, ‘রাজাদের শহর’ বর্ধমানের জলযন্ত্রণা মেটাতে আসরে নয়া বিধায়ক – এবেলা

গ্রীষ্মেও রাস্তায় ড্রেনের নোংরা জল, ‘রাজাদের শহর’ বর্ধমানের জলযন্ত্রণা মেটাতে আসরে নয়া বিধায়ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী ‘রাজাদের শহর’ বর্ধমান বর্তমানে একাধিক নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত। অল্প বৃষ্টিতেই শহরের রাস্তাঘাট জলের তলায় চলে যাওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, খোদ গ্রীষ্মকালেও রাস্তায় ড্রেনের নোংরা জল জমে থাকছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম বিপর্যয়, তীব্র যানজট, পার্কিংয়ের অভাব, বিসি রোডের ব্যবসায়িক মন্দা এবং ক্রমবর্ধমান বেআইনি নির্মাণের ফলে ক্ষোভ বাড়ছে শহরবাসীর মনে। এই পরিস্থিতিতে শহরের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলি সমাধানে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন বর্ধমান দক্ষিণের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র।

পরিকল্পনাহীন ড্রেনেজ ও জলযন্ত্রণা

শহরের এই জলযন্ত্রণার প্রধান কারণ হিসেবে মাস্টার প্ল্যানের ড্রেনগুলির অকার্যকারিতাকে দায়ী করেছেন বিধায়ক। বছরের পর বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় ড্রেনগুলি সম্পূর্ণ বুজে রয়েছে। এর পাশাপাশি জল নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথগুলি অবৈধভাবে প্লটিং করে কোথাও আবাসন, আবার কোথাও বস্তি তৈরি করায় জল বের হওয়ার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নোংরা জল রাস্তায় উপচে পড়ছে। এই বিপর্যয় রুখতে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে দ্রুত ড্রেজিং ও জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শহরের বুক চিরে যাওয়া বাঁকা নদী ও লহরের সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরসভার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে পাম্পও কেনা হয়েছে।

ব্যবসায়িক মন্দা ও ট্রাফিক বিপর্যয়

শহরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বিসি রোড ও তৎসংলগ্ন বাজারগুলির অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত শোচনীয়। বর্ধমান শহরে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ক্রেতাদের আনাগোনা কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কর্মীদের উপার্জনে। এই অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে আরামবাগ রুটের বাসগুলিকে একটি সুনির্দিষ্ট সিস্টেমের মাধ্যমে শহরের ভেতরে সচল করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, তীব্র যানজট নিয়ন্ত্রণে শহরের ট্রাফিক রুট নতুন করে সাজানো এবং গাড়ি ও বাইক পার্কিংয়ের জন্য সুষ্ঠু পরিকাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন রাস্তার যানজট কমবে, অন্যদিকে পার্কিং ফি বাবদ পুরসভার নিজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

অবৈধ নির্মাণ ও পুরসভার জায়গার সঠিক ব্যবহার

শহরে বর্তমানে যত্রতত্র নিয়মবহির্ভূতভাবে ফ্ল্যাট ও বহুতল নির্মাণের প্রতিযোগিতা চলছে। নির্দিষ্ট প্ল্যান না মেনে, রাস্তা বা চারপাশের বাধ্যতামূলক জায়গা না ছেড়েই তৈরি হচ্ছে একের পর এক বিল্ডিং। এমনকি রেলের জমিতেও অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এই বেআইনি নির্মাণ কঠোর হাতে দমন করার পাশাপাশি পুরসভার অধীনে থাকা অব্যবহৃত জমিগুলিকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেখানে নতুন মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করে ফুটপাথের হকারদের পুনর্বাসন দেওয়া সম্ভব হলে রাস্তা যেমন দখলমুক্ত হবে, তেমনই পুরসভার কোষাগারও সমৃদ্ধ হবে। বিগত ১৫ বছরের দুর্নীতির কারণে শহরের এই বেহাল দশা দাবি করে বিধায়ক জানান, সাধারণ মানুষকে ড্রেনের নোংরা জল থেকে মুক্তি দেওয়াই তাঁর প্রথম লক্ষ্য এবং বাকি সমস্যাগুলিও ধাপে ধাপে সমাধান করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *