গ্রেপ্তারি এড়াতে ত্রিপুরা হাই কোর্টে স্বস্তিতে অভিষেক, মিলল অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই আইনি জট কাটানোর লড়াইয়ে সাময়িক স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালের একটি পুরনো রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে হওয়া মামলায় গ্রেপ্তারি এড়াতে ত্রিপুরা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনো ধরনের হাজিরা দিতে হবে না। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে আপাতত বড়সড় আইনি ধাক্কা থেকে রেহাই পেলেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা।
খোয়াই থানার সেই অগ্নিগর্ভ অধ্যায়
এই মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালের আগস্ট মাসের শুরুতে, যখন ত্রিপুরায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে তৃণমূলের যুব নেতৃত্ব বাধার মুখে পড়ে। তৎকালীন যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা এবং জয়া দত্তের ওপর হামলার ঘটনায় ত্রিপুরা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এই নেতাদের গ্রেপ্তার করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। দলীয় সতীর্থদের মুক্তির দাবিতে খোয়াই থানায় দীর্ঘক্ষণ অবস্থানে বসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা। সেই সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় পাল্টা মামলা দায়ের করে ত্রিপুরা পুলিশ। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই সম্প্রতি খোয়াই আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমন পাঠালে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন।
আইনি জটে ক্রমাগত বাড়ছে অস্বস্তি
ত্রিপুরার এই মামলাটি একক কোনো ঘটনা নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক আইনি জটিলতায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি ক্রমাগত বাড়ছে। কয়লা বা শিক্ষক নিয়োগের মতো বড়সড় কেলেঙ্কারির অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআইয়ের নজরে রয়েছেন। এর পাশাপাশি সই জাল জালিয়াতির মামলা এবং মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট কর্তৃক মানহানির মামলায় রক্ষাকবচ প্রত্যাহার হওয়ার ঘটনা তাঁর ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ত্রিপুরা হাই কোর্টের এই সাময়িক স্বস্তি অভিষেককে রাজনৈতিকভাবে কিছুটা অক্সিজেন দিলেও, দেশজুড়ে তাঁর বিরুদ্ধে চলতে থাকা একের পর এক মামলার জট আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরে এবং তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
