ঘড়ির দিকে দেখো, সময় শেষ! চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানকে ঘিরে রণমূর্তি ধরলেন ট্রাম্প – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরান ও আমেরিকার দীর্ঘদিনের সংঘাত এবার চূড়ান্ত পরিণতির দিকে মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে কার্যত দেওয়ালের পিঠে ঠেকিয়ে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, শান্তি চুক্তিতে আসার জন্য তাদের হাতে সময় নেই বললেই চলে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে চলছে এবং সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। গত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির আবহ কাটিয়ে ইরানের আকাশে রহস্যময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও ইজরায়েল এই বিস্ফোরণের দায় অস্বীকার করেছে, তবে ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইরানের সামরিক শক্তি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের দামামা ও কঠোর অবরোধ
বিশ্বের জ্বালানি তেলের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী এখন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া নির্দেশ দিয়েছেন যে, সমুদ্রপথে মাইন পাততে দেখা গেলেই ইরানের যে কোনো নৌকা ডুবিয়ে দেবে মার্কিন ফৌজ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’-সহ তিনটি শক্তিশালী মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। সামরিক চাপের পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর ফলে তেহরানকে কেবল সামরিকভাবে নয়, বরং অর্থনৈতিকভাবেও পঙ্গু করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে হোয়াইট হাউস।
অনিশ্চয়তার মুখে শান্তি প্রক্রিয়া ও বিশ্ব অর্থনীতি
উত্তেজনার এই চরম মুহূর্তে পাকিস্তানের মাটিতে আয়োজিত হওয়ার কথা থাকা বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি বৈঠক এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। ভারত মহাসাগরে ইরানের তেলবাহী জাহাজ আটক করাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। ট্রাম্প পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করলেও সাধারণ অস্ত্রের মাধ্যমেই ইরানকে পিষে দেওয়ার যে দম্ভোক্তি করেছেন, তা বিশ্ববাসীকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি এবং তেলের বাজারে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- ইরানকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে অবিলম্বে শান্তি চুক্তিতে আসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন এবং মাইন পাতলে ইরানি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংসের মুখে দাবি করে অর্থনৈতিক অবরোধ আরও কঠোর করার ঘোষণা করেছে আমেরিকা।
- উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানে নির্ধারিত শান্তি বৈঠক স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
