ঘন ঘন মাইগ্রেনের যন্ত্রণা? আপনার অজান্তেই করা এই ৫টি ভুল বাড়াচ্ছে কষ্ট! – এবেলা

ঘন ঘন মাইগ্রেনের যন্ত্রণা? আপনার অজান্তেই করা এই ৫টি ভুল বাড়াচ্ছে কষ্ট! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মাইগ্রেন কেবল সাধারণ মাথা ব্যথা নয়—এটি একটি স্নায়বিক (Neurological) সমস্যা। ব্যথা একবার শুরু হলে তীব্র যন্ত্রণার পাশাপাশি আলো ও শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং বমি বমি ভাবের মতো একাধিক লক্ষণ দেখা দেয়। অনেকেই এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে বারবার পেইনকিলার খেয়ে থাকেন, কিন্তু আসল সমস্যা কোথায় তা খেয়াল করেন না। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ৫টি সাধারণ ভুলই মূলত এই অ্যাটাক ডেকে আনে।

মাইগ্রেনের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয় যে ৫টি অভ্যাস:

  • অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত ঘুম: নিয়মিত রাত জাগা কিংবা ৬ ঘণ্টার কম ঘুম মস্তিষ্কের স্নায়ুকে অতিরিক্ত উত্তেজিত করে তোলে। এমনকি ছুটির দিনে দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকার অভ্যাসও মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় মেনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি।
  • কম জল খাওয়া ও খাবার না খাওয়া: শরীরে জলের অভাব (ডিহাইড্রেশন) মাইগ্রেনের অন্যতম বড় অনুঘটক। এছাড়া সময়মতো না খেলে রক্তে শর্করা কমে গিয়ে হুট করে ব্যথা শুরু হতে পারে। দিনে অন্তত ৩ লিটার জল পান করুন এবং অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে খাবার খান।
  • একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা: ল্যাপটপ বা ফোনের নীল আলো চোখের স্নায়ুর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা মানসিক চাপের সাথে মিশে মাইগ্রেন অ্যাটাক ঘটায়। এক্ষেত্রে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমিয়ে চলার পাশাপাশি নিয়ম করে ’20-20-20′ নীতি (প্রতি ২০ মিনিটে ২০ ফুট দূরের কিছু দেখতে হবে ২০ সেকেন্ডের জন্য) মেনে চলুন।
  • নির্দিষ্ট কিছু খাবার: চকোলেট, চিজ, প্রক্রিয়াজাত মাংস, অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা কোমল পানীয়ের মধ্যে থাকা ‘টাইরামিন’ উপাদানটি অনেকের ক্ষেত্রে মাইগ্রেন বাড়িয়ে দেয়। কোন খাবার খাওয়ার পর কষ্ট বাড়ছে, তা নজর রাখতে একটি ‘ফুড ডায়েরি’ মেইনটেইন করুন।
  • অতিরিক্ত স্ট্রেস বা মানসিক চাপ: কাজের চাপ বা মানসিক উৎকণ্ঠা সরাসরি মস্তিষ্কে আঘাত হানে। স্ট্রেস কেটে যাওয়ার পর অনেকে ‘লেট-ডাউন মাইগ্রেন’-এ ভোগেন। প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট ধ্যান, ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ বা হাঁটাহাঁটি করে নিজেকে মানসিক চাপমুক্ত রাখুন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

যদি মাসে ৪ বারের বেশি মাইগ্রেনের অ্যাটাক হয়, ব্যথার ওষুধে কাজ না দেয় বা চোখের সামনে ঝাপসা লাগে, তবে অবিলম্বে একজন নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *