‘ঘরবাড়ি গিলে খেল নদী!’ নেপালে বুড়ি গণ্ডকীর প্রলয়ঙ্করী হড়পা বানে নিখোঁজ অন্তত ৫ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রবিবার ভোরে নেপালের গোর্খা জেলায় বুড়ি গণ্ডকী নদীর জল আচমকা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়ে এক প্রলয়ঙ্করী হড়পা বানের সৃষ্টি হয়। এক লহমায় ভেসে যায় একাধিক ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু। এই বিপর্যয়ে এখনো পর্যন্ত অন্তত ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ নেপালবাসীর মনে ফের উস্কে দিয়েছে অতীত ভোটকোশি বিপর্যয়ের ভয়াবহ স্মৃতি।
ভোররাতের সেই আতঙ্ক ও শেরাপের অভিজ্ঞতা:
তখন ভোর আনুমানিক ৪টে। লোকপা এলাকায় নিজের হোটেলেই ঘুমোচ্ছিলেন শেরাপ গুরুং। পর্যটকদের আনাগোনা থাকায় রাতে তিনি হোটেলই ছিলেন। হঠাৎই এক কানফাটা বিকট শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। আতঙ্কে ধড়ফড় করে উঠে বাইরে বেরিয়ে তিনি দেখতে পান চারদিকে হুলুস্থুল কাণ্ড। গ্রামবাসী ও পর্যটকেরা প্রাণভয়ে পাহাড়ি পথের দিকে ছুটছেন।
বিপদের আকস্মিকতা টের পেয়ে বিন্দুমাত্র দেরি করেননি শেরাপ। বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে একটি পাহাড়ে দৌড়ে উঠে যান তিনি এবং একটি ঘন জঙ্গলাবৃত গুহায় আশ্রয় নেন। গুহার নিরাপদ আশ্রয় থেকেই তিনি প্রত্যক্ষ করেন নদীর সেই রাক্ষুসে রূপ।
“ভোরবেলা যে বিকট আওয়াজ পেয়েছিলাম, তা জীবনে কখনো শুনিনি। পাহাড়ি পথ বেয়ে জঙ্গলের একটা গুহায় না ঢুকলে হয়তো বাঁচতাম না। চোখের সামনে দেখলাম, আশপাশের সব ঘরবাড়ি এক নিমেষে গিলে খেল বুড়ি গণ্ডকী,” — অভিজ্ঞতা ভাগ করে বললেন শেরাপ গুরুং।
বিপর্যয়ের কারণ ও স্থানীদের বক্তব্য:
প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, ২৫-৩০ বছর আগে এই নদীতে একবার জল বাড়লেও এমন প্রলয়ঙ্কর রূপ কেউ কখনো দেখেনি। স্থানীয়দের অনুমান, উনগিলুং নদীতে বড়সড় ধস নামার ফলেই হয়তো বুড়ি গণ্ডকী নদীতে এই ভয়াবহ হড়পা বানের সৃষ্টি হয়েছে।
জগত এলাকার বাসিন্দা গণেশ কার্কি জানান, “ফোনের রিং শুনে ঘুম ভেঙেছিল। ওপার থেকে পরিচিত একজন চিল চিৎকার করে বলল— ‘ভাই, পালাও! হড়পা বান আসছে!’ আমরা মুহূর্তের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে ৫০০ মিটার দূরের পাহাড়ের উঁচুতে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করি।”
বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্কের আবহ সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসন উদ্ধারকাজ জারি রেখেছে।
