চন্দ্রনাথ খুনে মোড় ঘোরানো মোড়! খুনিদের জালে পুরতে পুলিশের হাতে ‘ডিজিটাল অস্ত্র’ – এবেলা

চন্দ্রনাথ খুনে মোড় ঘোরানো মোড়! খুনিদের জালে পুরতে পুলিশের হাতে ‘ডিজিটাল অস্ত্র’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অবশেষে বড়সড় সাফল্যের মুখ দেখল পুলিশ। গত বুধবার রাতে চন্দ্রনাথকে গুলি করে খুনের ঘটনায় এতদিন আততায়ীদের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর সাম্প্রতিক তৎপরতায় উঠে এসেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র, যা অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত চারচাকার গাড়িটি প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকে আনা হয়েছিল। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে এ রাজ্যে ঢোকার পরেই হয়তো গাড়িটির নম্বর প্লেট বদলে ফেলা হয়। তবে বালি টোল প্লাজায় আততায়ীদের একটি ছোট ভুল পুলিশের হাতে বড় অস্ত্র তুলে দিয়েছে। টোল মেটানোর সময় দুষ্কৃতীরা ফাস্ট ট্র্যাক বা নগদ টাকার বদলে ইউপিআই (UPI) ব্যবহার করেছিল। এই ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরেই এখন অপরাধীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও পরিচয়ের খোঁজে নেমেছে পুলিশ।

রহস্যময় ৬-৭ ঘণ্টার ব্যবধান ও ছক কষা আক্রমণ

তদন্তের প্রয়োজনে ‘ব্যাক ট্র্যাকিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করে পুলিশ চন্দ্রনাথের এবং ঘাতক গাড়িটির গতিবিধি খতিয়ে দেখছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খুনের অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা আগেই গাড়িটি মধ্যমগ্রাম এলাকায় ঢুকে পড়েছিল। দুপুর ৩টে নাগাদ মধ্যমগ্রাম চৌমাথায় গাড়িটিকে শেষবার দেখা যায়, যার কিছুক্ষণ আগেই সেটি বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে অতিক্রম করেছিল। কিন্তু গাড়িটি মধ্যমগ্রামে প্রবেশের পর থেকে খুনের সময় পর্যন্ত দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার কোনো সঠিক হিসাব মেলাতে পারছেন না তদন্তকারীরা।

নিখুঁত পরিকল্পনার ইঙ্গিত

পুলিশের অনুমান, ওই কয়েক ঘণ্টা দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট এলাকা রেইকি বা পর্যবেক্ষণ করছিল। কোন গলি দিয়ে পালানো সহজ, কোথায় সিসিটিভি কম কিংবা কোন রাস্তায় আলো কম থাকে— মূলত এই ‘পিন পয়েন্ট’ লোকেশনগুলো খুঁটিয়ে দেখার জন্যই তারা সময় অতিবাহিত করেছিল। মাঝপথে সিসিটিভি থেকে গাড়িটি উধাও হয়ে যাওয়া এবং পুনরায় আবির্ভূত হওয়া একটি পেশাদার অপরাধী চক্রের সক্রিয়তার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডিজিটাল পেমেন্টের সূত্র ধরে দ্রুত এই রহস্যের জট খুলবে বলে আশাবাদী তদন্তকারী দল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *