চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড: তদন্তে এবার সিবিআই, মধ্যরাতে গঠিত হলো ৭ সদস্যের হাই-প্রোফাইল ‘সিট’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে এবার ময়দানে নামল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। সোমবার গভীর রাতে এই মামলার তদন্তের জন্য সাত সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে সিবিআই কর্তৃপক্ষ। ডিআইজি পঙ্কজকুমার সিংহের নেতৃত্বে এই শক্তিশালী টিমটি সরাসরি কেন্দ্রীয় সংস্থার কলকাতার জয়েন্ট ডিরেক্টরের অধীনে থেকে কাজ করবে।
খুনের নেপথ্যে সুপারি কিলার ও ভিনরাজ্য যোগ
গত ৬ মে, লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক দু’দিন পর মধ্যমগ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় চন্দ্রনাথ রথকে। আততায়ীদের ছোড়া চারটি গুলির মধ্যে তাঁর পেটে, বুকে ও মাথায় আঘাত লাগে, যার ফলে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হন তাঁর গাড়িচালকও। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, অপরাধীরা অত্যন্ত পেশাদার শার্প শুটার। খুনের পর তারা ভিনরাজ্যে পালিয়ে যায়। বালি টোলপ্লাজায় ইউপিআই (UPI) পেমেন্টের ডিজিটাল সূত্র ধরে তদন্তকারীরা উত্তরপ্রদেশ ও বক্সার থেকে তিন শার্প শুটারকে ইতিপূর্বেই গ্রেফতার করেছেন।
কেন্দ্রীয় তদন্তের লক্ষ্য ও প্রভাব
সিবিআই-এর গঠিত এই বিশেষ দলে ডিআইজি পঙ্কজকুমার সিংহ ছাড়াও রয়েছেন সুভাষচন্দ্র কুণ্ডু, অনিলকুমার যাদব, বিকাশ পাঠক, অমিত কুমার, কুলদীপ এবং বিবেক শ্রীবাস্তব। এই সাতজন তুখোড় অফিসার মূলত খতিয়ে দেখবেন, ভিনরাজ্যের এই শার্প শুটারদের নেপথ্যে আসল মাস্টারমাইন্ড বা সুপারি দাতা কারা।
রাজ্য রাজনীতির এই হাই-প্রোফাইল খুনের মামলায় সিবিআই-এর প্রবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার গভীরতা এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অপরাধীরা গ্রেফতার হলেও এর নেপথ্যে কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র বা রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করাই এখন সিবিআই-এর প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ডিজিটাল লেনদেন এবং ভিনরাজ্যের গ্যাংস্টারদের যোগসূত্র এই তদন্তের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে।
