চরম দারিদ্র্য থেকে আকাদেমি পুরস্কার, পুরুলিয়ার দুই ছৌ শিল্পীর মুকুটে নয়া পালক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
একসময় দু’বেলা থালাভর্তি ভাত জুটত না, দিন কেটেছে অর্ধাহারে। তবু পেটের জ্বালা তাঁদের শিল্পসত্তাকে গ্রাস করতে পারেনি। চরম আর্থিক প্রতিকূলতাকে হারিয়ে পুরুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী ছৌ নাচকে আঁকড়ে ধরে রাখার বিরল স্বীকৃতি পেলেন জেলার দুই শিল্পী নৃপেন সহিস এবং সোমনাথ মাহাতো। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের তরফে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে সম্মানজনক সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার।
অভাবের আঁধার পেরিয়ে সাফল্যের আলো
পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের বালিগাড়া গ্রামের বাসিন্দা ৫৪ বছর বয়সি নৃপেন সহিসের ছৌ নাচে হাতেখড়ি দাদুর কাছে। অভাবের তাড়নায় চতুর্থ শ্রেণির পর আর পড়াশোনা হয়নি, জঙ্গলের শাকপাতা খেয়েও রাত জেগে চালিয়ে গিয়েছেন ছৌ নৃত্য। অন্যদিকে বাঘমুন্ডি ব্লকের ২৫ বছরের তরুণ সোমনাথ মাহাতো পাচ্ছেন ‘উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান যুব পুরস্কার’। পরিযায়ী শ্রমিক পিতার ঘরে জন্ম নেওয়া সোমনাথ অভাবের সঙ্গে লড়াই করেই ভূগোলে অনার্স এবং ছৌ নাচে ডিপ্লোমা করেছেন। বাবার কাছে পাওয়া শিক্ষাকে সঙ্গী করে তিনি ইতিমধ্যে জাপান ও মালয়েশিয়াতেও এই লোকনৃত্যের প্রচার করে এসেছেন। লোকায়ত শিল্পের প্রতি এই অদম্য ভালোবাসা এবং বংশপরম্পরায় শিল্পকে টিকিয়ে রাখার নিরলস লড়াইয়ের কারণেই তাঁরা এই জাতীয় সম্মানে ভূষিত হলেন।
লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণে নতুন প্রেরণা
জাতীয় স্তরের এই জোড়া স্বীকৃতি কেবল এই দুই শিল্পীর ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং বাংলার লোকসংস্কৃতির জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি। আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার যে দৃষ্টান্ত তাঁরা স্থাপন করেছেন, তা আগামী দিনে গ্রামীণ শিল্পীদের গভীর অনুপ্রেরণা জোগাবে। এই পুরস্কার প্রমাণ করল, অভাবের কাছে মাথা নত না করে নিষ্ঠার সঙ্গে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে লালন করলে তা বিশ্বমঞ্চেও সমাদৃত হয়। এর ফলে আঞ্চলিক স্তরের ছৌ শিল্পীরা আরও বেশি উৎসাহ নিয়ে এই শিল্পে যুক্ত হবেন, যা বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিকে বিশ্বজুড়ে আরও প্রসারিত করতে সাহায্য করবে।
