চলতে চলতেই এসিতে আচমকা আগুন, সুরক্ষিত থাকতে কোন কোন বিষয়ে নজর দেবেন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রবল গরমে স্বস্তি পেতে এখন ঘরে ঘরে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি চালানো অত্যন্ত সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই আরামের যন্ত্রটিই অনেক সময় ডেকে আনছে ভয়াবহ বিপদ। সম্প্রতি এসি বিস্ফোরণে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস তথা সিসিআই-এর প্রথম চেয়ারম্যান ধ্যানেন্দ্র কুমারের মৃত্যুর ঘটনা এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অসচেতনতা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এসিতে আচমকা আগুন লাগা বা বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটছে, যা থেকে প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
বিপদের প্রধান কারণসমূহ
এসিতে আগুন লাগার অন্যতম প্রধান কারণ হলো সঠিক সময়ে সার্ভিসিং না করানো। এসির ভেন্টে ধুলোবালি জমে থাকলে ঘর ঠিকমতো ঠান্ডা হতে চায় না। এর ফলে তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমিয়ে দিলে ভিতরের যন্ত্রাংশ মাত্রাতিরিক্ত গরম বা ওভারহিট হয়ে যায়। এছাড়া তীব্র গরমে টানা ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় এসি চললে কম্প্রেসার সেই চাপ নিতে পারে না এবং একপর্যায়ে তা বিকল হয়ে আগুন ধরে যায়। অনেক পুরনো বাড়িতে দুর্বল ওয়্যারিং বা এক্সটেনশন কর্ডের সাহায্যে এসি চালানোর ফলেও শর্ট সার্কিট থেকে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।
প্রতিরোধের উপায় ও সতর্কতা
এই ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়াতে প্রত্যেক গ্রীষ্মের শুরুতেই নিয়ম মেনে এসি সার্ভিসিং করানো বাধ্যতামূলক। কোনো অবস্থাতেই এক্সটেনশন কর্ডের মাধ্যমে এসি চালানো যাবে না এবং প্রয়োজনে দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ানের পরামর্শ নিতে হবে। এসি চলাকালীন ঘর থেকে সামান্যতম পোড়া গন্ধ পেলে কিংবা কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা আলোর ফুলকি দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ এসি বন্ধ করে মেইন সুইচ অফ করে দেওয়া জরুরি। সুরক্ষার স্বার্থে এসি চালানোর সময় ঘরের দরজা পুরোপুরি লক না করে সামান্য ভেজিয়ে রাখা উচিত, যাতে জরুরি অবস্থায় দ্রুত বাইরে বের হওয়া যায়। সর্বোপরি, এসি অতিরিক্ত পুরনো হয়ে গেলে ব্যবহারের আগে তার কার্যক্ষমতা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
