চাকরি বাঁচানোর সুবর্ণ সুযোগ, প্রাথমিক শিক্ষকদের টেট পাসের ডেডলাইন বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশের লাখ লাখ কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর নিয়ে এল দেশের শীর্ষ আদালত। পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা সংশোধন করে শিক্ষক যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা বা টেট (TET) পাসের ডেডলাইন আরও এক বছর বাড়িয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের আগামী ২০২৮ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। শুক্রবার একটি রিভিউ মামলার শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এই তাৎপর্যপূর্ণ রায় প্রদান করেন।
স্বস্তির মাঝেও রয়েছে কঠোর শর্ত
আদালতের এই রায়ে যেমন সময়সীমা বৃদ্ধির স্বস্তি রয়েছে, তেমনই রয়েছে কিছু সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর নিয়ম। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যেসব শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ আর মাত্র ৫ বছর বা তার কম বাকি রয়েছে, তাঁদের জন্য টেট পাস করা বাধ্যতামূলক নয়। তাঁরা পরীক্ষা না দিয়েই চাকরি জীবন শেষ করতে পারবেন। তবে এই ৫ বছরের কম মেয়াদি শিক্ষকেরা যদি ভবিষ্যতে কোনো পদোন্নতির সুবিধা পেতে চান, তবে তাঁদেরও টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। অন্যদিকে, যেসব শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ এখনও ৫ বছরের বেশি সময় বাকি রয়েছে, তাঁদের জন্য এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেট পাস করা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক।
চাকরি হারানোর আশঙ্কা ও অবসরের নিয়ম
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে গোটা দেশে প্রায় ৩০ লক্ষেরও বেশি কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষক রয়েছেন যাঁরা এখনও টেট উত্তীর্ণ হননি। এর আগের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ২০২৭ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে টেট পাস না করতে পারলে চাকরি ছাড়তে হবে। রিভিউ মামলার পর সেই ডেডলাইন ২০২৮ সাল পর্যন্ত বর্ধিত হওয়ায় শিক্ষকেরা প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বাড়তি কিছু সময় পেলেন। তবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে বা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে শেষ পর্যন্ত চাকরি খোয়াতে হবে। অবশ্য চাকরি হারালেও মানবিকতার খাতিরে তাঁদের অবসরকালীন যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার আইনি প্রক্রিয়া বজায় থাকল, অন্যদিকে লাখো শিক্ষকের আকস্মিক কর্মহীনতার আশঙ্কাও সাময়িকভাবে দূর হলো।
