চাবাহার বন্দরে ফুরিয়ে আসছে মার্কিন ছাড়ের মেয়াদ, ভারতের সামনে এখন কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকার সময়সীমা আগামী ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শেষ হতে যাচ্ছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এতদিন ভারতকে বিশেষ ছাড় দিয়ে আসলেও, তা বর্ধিত করার বিষয়ে ওয়াশিংটন থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সংকেত মেলেনি। ফলে মধ্য এশিয়ায় প্রবেশের এই প্রধান পথটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আঞ্চলিক রাজনীতি ও চাবাহারের গুরুত্ব
পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দরে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা এবং পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় সরাসরি পণ্য পৌঁছানোর জন্য চাবাহার বন্দর ভারতের কাছে এক অপরিহার্য তুরুপের তাস। ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় ভারত বরাবরই একে মানবিক সহায়তা এবং আঞ্চলিক সংযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে মার্কিন ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এই বিশাল বিনিয়োগ এখন ঝুঁকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিকল্প পথ খুঁজছে দিল্লি
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চললেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এই অনিশ্চয়তা কাটাতে ভারত কিছু বিকল্প পথও খতিয়ে দেখছে। যদি মার্কিন প্রশাসন শেষ পর্যন্ত ছাড়ের মেয়াদ না বাড়ায়, তবে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে ভারত সাময়িকভাবে এই বন্দরের পরিচালনাভার কোনো স্থানীয় বা ইরানি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার মতো কৌশল অবলম্বন করতে পারে। শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন এবং তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন দিল্লির জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এক ঝলকে
- চাবাহার বন্দর প্রকল্পে দেওয়া মার্কিন ছাড়ের মেয়াদ ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শেষ হচ্ছে।
- নতুন করে ছাড় না পেলে ইরানের এই বন্দরে ভারতীয় বিনিয়োগ ও কার্যক্রম বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বে।
- আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় সরাসরি প্রবেশের ক্ষেত্রে ভারতের এই কৌশলগত প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভারত বর্তমানে বিকল্প পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
