চার দেয়ালের মধ্যে গালিগালাজ করলেই ‘অ্যাট্রোসিটি’ নয়! এসসি/এসটি আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় রায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ব্যক্তিগত পরিসরে বা চার দেয়ালের মাঝে সংঘটিত কোনো জাতিগত অবমাননাকর মন্তব্যকে তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন বা এসসি-এসটি (SC/ST Act) আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেছে। বিচারপতি এন. ভি. আঞ্জারিয়া এবং বিচারপতি পি. কে. মিশ্রর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে যে, এই আইনের অধীনে মামলা দায়ের করতে হলে সেই অবমাননা অবশ্যই জনসমক্ষে ঘটতে হবে।
জনসমক্ষে ঘটা বাধ্যতামূলক
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসসি-এসটি আইনের ধারা ৩(১)(আর) এবং ৩(১) (এস) কার্যকর করার প্রাথমিক শর্ত হলো ঘটনাটি ‘পাবলিক ভিউ’ বা জনসমক্ষে ঘটতে হবে। অর্থাৎ, যদি কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট জাতির মানুষকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করেন, তবে সেখানে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি থাকা আবশ্যক যারা সেই ঘটনাটি সরাসরি দেখেছেন বা শুনেছেন। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তিগত বাসভবনের ভেতরে কোনো ঘটনা ঘটে যেখানে বাইরের কারো প্রবেশাধিকার নেই বা কেউ বিষয়টি লক্ষ্য করেননি, তবে তাকে ‘পাবলিক ভিউ’ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
তবে আদালত একটি সূক্ষ্ম ব্যাখ্যাও যোগ করেছে। কোনো ঘটনা ব্যক্তিগত স্থানে ঘটলেও যদি সেটি বাইরে থেকে দেখা যায় বা সাধারণ মানুষের শোনার সুযোগ থাকে, তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সেটিকে জনসমক্ষে ঘটা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অস্পষ্ট অভিযোগ
দিল্লির একটি পারিবারিক সম্পত্তি বিবাদকে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল। একই পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে জাতিগত কটূক্তির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়। মজার বিষয় হলো, অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন এবং অভিযোগকারী স্বয়ং তফশিলি জাতিভুক্ত ভাই। অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল, অভিযুক্ত এক নারী (যিনি বিয়ের আগে উচ্চবর্ণের ছিলেন) জাতিগত অবমাননা করেছেন।
সুপ্রিম কোর্ট পর্যালোচনায় দেখেছে যে, এফআইআর-এ আনা অভিযোগগুলো অত্যন্ত অস্পষ্ট এবং সেখানে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার উল্লেখ নেই। এছাড়া সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম দেওয়া হয়েছিল, তারা অভিযোগকারীর বন্ধু এবং তারা ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর ভিত্তিতেই আদালত অপরাধমূলক হুমকির অভিযোগটিও খারিজ করে দেয়।
আইনি প্রভাব ও স্বচ্ছতা
এই রায়ের ফলে এসসি-এসটি আইনের অপব্যবহার রোধে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হলো বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। আদালতের এই ব্যাখ্যা ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করার প্রবণতা হ্রাস করবে। একইসঙ্গে এটি স্পষ্ট করে দিল যে, আইনের কঠোরতা বজায় রাখতে হলে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও সাক্ষ্য-প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা অপরিহার্য। আদালতের মতে, অপরাধ প্রমাণের জন্য শুধুমাত্র অভিযোগ যথেষ্ট নয়, বরং নির্দিষ্ট অপরাধমূলক মানসিকতা ও আইনি শর্তাবলির প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।
