চার মাস ধরে নিখোঁজ ছাত্রীকে ১০ জন মিলে চালালো শোষণ, অটোচালকের কান্ড শুনলে শিউরে উঠবেন আপনিও – এবেলা

চার মাস ধরে নিখোঁজ ছাত্রীকে ১০ জন মিলে চালালো শোষণ, অটোচালকের কান্ড শুনলে শিউরে উঠবেন আপনিও – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে মানবিকতা ও নিরাপত্তার চরম অবনতি ঘটিয়ে এক ১৪ বছরের নাবালিকাকে টানা চার মাস আটকে রেখে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নবম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ১০ জন মিলে বিভিন্ন স্থানে ও হোটেলে আটকে রেখে এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করেছে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে এবং বাকিদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।

যেভাবে শুরু হয়েছিল এই বিভীষিকা

চৌরি-চৌরা থানা এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকা তার মাসির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। তার বাবা গুজরাটে শ্রমিকের কাজ করেন এবং মা দীর্ঘকাল ধরে অসুস্থ। গত ১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মেয়েটি প্রতিদিনের মতো স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে অবশেষে ৭ নভেম্বর পুলিশের কাছে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। গত ২৩ মার্চ পুলিশ তাকে উদ্ধার করার পর বেরিয়ে আসে গত চার মাসের লোমহর্ষক সব তথ্য।

অটো চালকের বিশ্বাসভঙ্গ ও ধারাবাহিক অপরাধ

তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন মেয়েটি স্কুলে যাওয়ার পথে মনিশ রাজভর ওরফে মনু নামে এক পরিচিত অটো চালকের মুখে পড়ে। মনু তাকে প্রলোভন দেখিয়ে একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানে প্রথমবার ধর্ষণ করে। এরপর সেখানে উপস্থিত মনুর আরও দুই বন্ধু নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতন চালায়।

ভয়ে বিপর্যস্ত মেয়েটি বাড়ি না ফিরে রামগড়তাল এলাকায় চলে যায়। সেখানে সাহায্যের নাম করে অন্য এক যুবক তাকে নিজ বাড়িতে এক মাস আটকে রাখে এবং লাগাতার ধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, ওই যুবকের বন্ধুরাও মেয়েটিকে নিগ্রহ করতে ছাড়েনি।

হোটেলের অন্ধকার ঘরে দিনের পর দিন নির্যাতন

নাবালিকার জবানবন্দি এবং পুলিশের সংগৃহীত কল ডিটেইলস অনুযায়ী, গত চার মাসে তাকে শহরের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। সব মিলিয়ে ১০ জন ব্যক্তি পর্যায়ক্রমে তাকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে। চিকিৎসকের পরীক্ষাতেও ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনায় হোটেলের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি

এসপি নর্থ জ্ঞানেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তির সহায়তায় মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে অটো চালক মনিশ রাজভর, হোটেল পরিচালক ধর্মরাজ, সমীর এবং কিষাণকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাকি ছয় অভিযুক্তের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

এক ঝলকে

  • ঘটনার স্থান: গোরক্ষপুর জেলার চৌরি-চৌরা এবং রামগড়তাল এলাকা।
  • ভুক্তভোগী: নবম শ্রেণীর ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী।
  • নিখোঁজ কাল: ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ২৩ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় চার মাস।
  • অভিযুক্তের সংখ্যা: মোট ১০ জন (যার মধ্যে অটো চালক ও হোটেল মালিক অন্তর্ভুক্ত)।
  • পুলিশি ব্যবস্থা: এখন পর্যন্ত ৪ জন গ্রেপ্তার, বাকি ৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত জারি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *