“চার লাইনে ক্ষুদিরামের ইতিহাস শেষ!” পাঠ্যবই ইস্যুতে তোপ দেগে কেশপুরে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে এক জনসভায় যোগ দিয়ে মহান বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বীর বিপ্লবীর জন্মভিটে মোহবনিতে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—অতীতের রাজনৈতিক হানাহানি ও সন্ত্রাসের তকমা মুছে কেশপুরকে এবার উন্নয়নের নতুন শিখরে নিয়ে যাওয়া হবে।
মোহবনি উন্নয়ন পর্ষদে ৫ কোটি টাকা ও লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো
শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে মোহবনির সার্বিক উন্নয়নের দায়িত্ব দিয়েছেন এবং সভায় আসার আগেও তাঁর সঙ্গে ফোনে আলোচনা হয়েছে।
মোহবনি উন্নয়ন পর্ষদের জন্য প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করে তিনি বলেন:
- ক্ষুদিরাম বসুর পৈতৃক ভিটেটি সুন্দরভাবে সংস্কার করা হবে।
- তৈরি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ মিউজিয়াম, গ্যালারি, লেজার শো এবং লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো।
- জেলাশাসককে (DM) সমস্ত পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। টাকার অভাবে কোনো কাজ আটকাবে না এবং আগামী বছরের মধ্যেই এই কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
পাঠ্যপুস্তক ও ইতিহাস নিয়ে তীব্র আক্রমণ
শিক্ষা ব্যবস্থা ও বর্তমান সিলেবাস নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধী দলনেতা বলেন, বর্তমান প্রজন্ম দেশের আসল ইতিহাস জানতে পারছে না। পাঠ্যপুস্তকে সিঙ্গুর আন্দোলন বা টাটা তাড়ানোর কথা লেখা হলেও, ক্ষুদিরাম বসু কিংবা মাতঙ্গিনী হাজরার মতো বীর শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস মাত্র চার লাইনে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। বাম ও তৃণমূল—কোনো সরকারই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যোগ্য সম্মান দেয়নি বলে তিনি তোপ দাগেন এবং প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত বিপ্লবী ভাবধারা সঠিকভাবে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
সন্ত্রাসমুক্ত কেশপুর ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি
কেশপুরের অতীত হিংসার কথা তুলে ধরে তিনি আশ্বাস দেন যে লুটপাট, রাহাজানি ও বোমাবাজির দিন এখন শেষ। এবার কেশপুরের প্রতিটি সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছে যাবে ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর’ প্রকল্পের সুবিধা।
এর পাশাপাশি সভায় উপস্থিত পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে তিনি কড়া বার্তা দেন—রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বিজেপি করার অপরাধে যাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, দ্রুত সেই সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
