চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন ডি সেবন ডেকে আনছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি – এবেলা

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন ডি সেবন ডেকে আনছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আজকের কর্মব্যস্ত জীবনে সামান্য হাড়ের ব্যথা বা শারীরিক ক্লান্তি অনুভব করলেই অনেকে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করছেন। আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসকে সাধারণ মনে হলেও চিকিৎসকরা একে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করছেন। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় এই উপাদানের অতিরিক্ত মাত্রা বা ভুল সেবন পদ্ধতি কিডনি ও হৃদযন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে।

অতিরিক্ত মাত্রার নেতিবাচক প্রভাব

ভিটামিন ডি মূলত শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। তবে শরীরে এর পরিমাণ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয়ে গেলে তাকে ‘ভিটামিন ডি টক্সিসিটি’ বলা হয়। এর ফলে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে হাইপারক্যালসেমিয়ার সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক অবস্থায় এর প্রভাবে বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং মানসিক বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম রক্তনালীতে জমা হয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় এবং কিডনিতে পাথর সৃষ্টির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রাকৃতিক উৎস ও সচেতনতা

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টের পরিবর্তে প্রাকৃতিক উৎসের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রতিদিন সকালে অন্তত ১০-১৫ মিনিট সূর্যের আলোয় থাকা ভিটামিন ডি পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায়। এছাড়া নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ডিমের কুসুম, চর্বিযুক্ত মাছ ও মাশরুম রাখা যেতে পারে। শারীরিক কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে নিজে ওষুধ না কিনে প্রথমে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের প্রকৃত অবস্থা জানা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডোজ গ্রহণ করাই সুস্থ থাকার একমাত্র পথ।

এক ঝলকে

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন ডি সেবন কিডনি ও হৃদযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
  • শরীরে ভিটামিন ডি-এর অতিরিক্ত মাত্রা রক্তে ক্যালসিয়াম বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে কিডনিতে পাথর হতে পারে।
  • সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে রক্ত পরীক্ষা করে শরীরের প্রকৃত অবস্থা জেনে নেওয়া জরুরি।
  • সূর্যের আলো এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রাকৃতিক খাবার ভিটামিন ডি-এর জন্য ওষুধের চেয়েও নিরাপদ ও কার্যকর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *