চিকিৎসার চরম গাফিলতিতে নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন, অলৌকিকভাবে বাঁচলেন মা!

চিকিৎসার চরম গাফিলতিতে নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন, অলৌকিকভাবে বাঁচলেন মা!

উত্তরপ্রদেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চরম গাফিলতি: প্রসবের সময় নবজাতকের দেহ বিচ্ছিন্ন, শিউরে উঠছে দেশ

উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলায় সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার এক বীভৎস রূপ সামনে এসেছে। প্রসব যন্ত্রণায় কাতর এক নারীর সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে হাসপাতালের কর্মীদের চরম অদূরদর্শিতা ও অমানবিক গাফিলতির কারণে নবজাতকের ধড় মাথা থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাটি গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাবকে পুনরায় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও চিকিৎসার গাফিলতি

বস্তি জেলার মুরাদপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রীমা দেবী (২৭) গত ৮ এপ্রিল প্রসব যন্ত্রণায় ভুগতেন। স্বামী নীরজ কুমার তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কুদরহা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে (CHC) নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথেই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং গর্ভস্থ শিশুর পা বাইরের দিকে চলে আসে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত নার্স এবং কর্মীরা পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হন। অভিযোগ উঠেছে, নার্স কুসুম প্রীমা দেবীকে একটি ইনজেকশন দেওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই শিশুর পা ধরে জোরে টান দেন। এই প্রবল হেঁচকা টানে নবজাতকের কোমল দেহ সহ্য করতে না পেরে মাথা থেকে ধড় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শিশুটির মাথা মায়ের গর্ভে আটকে থাকে এবং ঘটনাস্থলেই নবজাতকের মৃত্যু হয়।

দায়িত্ব এড়ানো ও আর্থিক 착취

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর সিএইচসি কর্মীরা নিজেদের ভুল স্বীকার করার পরিবর্তে রোগীকে দ্রুত একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে রেফার করেন। সেখানেও অসহায় পরিবারটিকে হয়রানির শিকার হতে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো চিকিৎসা শুরু করার আগেই রক্ত পরীক্ষা এবং বেড চার্জের নামে ওই বেসরকারি হাসপাতালটি পরিবারের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। শেষপর্যন্ত নিরুপায় স্বামী তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে বস্তি মেডিকেল কলেজের কাইলি ইউনিটে ছুটে যান।

জটিল অস্ত্রোপচার ও বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ

বস্তি মেডিকেল কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. কল্পনা মিশ্র জানান, প্রীমা দেবীকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সাধারণ প্রসব সম্ভব ছিল না বলে প্রায় ২ ঘণ্টার এক জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গর্ভ থেকে নবজাতকের বিচ্ছিন্ন মাথাটি বের করে আনা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় চিকিৎসকরা প্রীমা দেবীর প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন শিশু ‘ব্রিচ পজিশন’ বা উল্টো অবস্থায় থাকে, তখন সেটি একটি হাই-রিস্ক কেস। এমন পরিস্থিতিতে জোর করে সাধারণ প্রসবের চেষ্টা না করে সিজারিয়ান (C-Section) করাটাই একমাত্র নিরাপদ পথ। জোর করে টেনে বের করার অদক্ষ চেষ্টার ফলেই এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

তদন্ত ও আইনি লড়াই

ভুক্তভোগী স্বামী নীরজ কুমার এই অমানवीय ঘটনার জন্য দায়ী সিএইচসি কর্মীদের কঠোর শাস্তি এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সিএমও ড. রাজীব নিগম প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছেন।

এক ঝলকে

ঘটনা: প্রসবের সময় অবহেলায় নবজাতকের ধড় মাথা থেকে বিচ্ছিন্ন।
স্থান: কুদরহা সিএইচসি, বস্তি জেলা, উত্তরপ্রদেশ।
মূল কারণ: স্বাস্থ্যকর্মীদের অদক্ষতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ডেলিভারিতে জোরপূর্বক টানাটানি।
বর্তমান অবস্থা: ২ ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের পর মা বেঁচে গেলেও নবজাতকের মৃত্যু।
দাবি: দোষী স্বাস্থ্যকর্মী ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *