‘চিকেনস নেক কারো বাপের সম্পত্তি নয়!’ ব্যারাকপুর থেকে মমতাকে তীব্র আক্রমণ অমিত শাহের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ব্যারাকপুর: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই বঙ্গ বিজেপি কর্মীদের চাঙ্গা করতে ময়দানে নামলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার ব্যারাকপুরের আনন্দপুরী মাঠের জনসভা থেকে অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে তুলোধোনা করলেন তিনি।
‘চিকেনস নেক’ ও জাতীয় নিরাপত্তা
শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে শাহের হুঁশিয়ারি ছিল অত্যন্ত কড়া। তিনি বলেন, “কিছু মানুষ দিল্লিতে স্লোগান দেয় চিকেনস নেক বন্ধ করে দেওয়ার। এটা কি কারো বাবার জায়গা নাকি? এটা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এখানে হাত দেওয়ার সাহস কারো নেই।” উত্তরবঙ্গকে বিজেপির দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, শিলিগুড়ি গোটা দেশের সংযোগস্থল এবং একে রক্ষা করতে বিজেপি বদ্ধপরিকর।
অনুপ্রবেশ ও বিএসএফ ইস্যু
অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে বিএসএফ-এর জন্য জমি না দেওয়া নিয়ে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধেছেন শাহ। তিনি জানান, “আমি নিজে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমি চেয়েছি, কিন্তু তিনি দেননি। হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও তিনি মানছেন না। তবে এপ্রিলে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে সমস্ত জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে।” অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে ফেরত পাঠানোর হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
দুর্নীতি ও ‘ভাইপো’ কটাক্ষ
রাজ্যের সাম্প্রতিক জেলবন্দি মন্ত্রী-নেতাদের প্রসঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমোকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে শাহ বলেন, “আপনার যদি সততা থাকে, তবে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ২৩ জন নেতাকে এবার টিকিট না দিয়ে দেখান।” তাঁর টিপ্পনি, মমতা দিদি এটা করতে পারবেন না, কারণ টিকিট না পেলে জেলবন্দি নেতারা ‘ভাইপো’-র নাম ফাঁস করে দেবেন।
নির্বাচনী লক্ষ্য
এদিন শাহ স্পষ্ট করে দেন যে উত্তরবঙ্গের ২৮টি আসনেই জয়ের ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। এছাড়া বন্দে মাতরম বিতর্ক টেনে তিনি অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র ‘অনুপ্রবেশকারী ভোটব্যাঙ্ক’ খুশি রাখতেই তৃণমূল এই জাতীয় স্লোগানের বিরোধিতা করছে। ব্যারাকপুরের সভা শেষ করেই বিকেলের বিমানে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন শাহ।

