সন্তানদের সামনেই স্ত্রীকে ২০ বার ছুরিকাঘাত! বেঙ্গালুরুতে মহিলা হোম গার্ডকে নৃশংস খুন স্বামীর – এবেলা
/newsfirstprime/media/media_files/2026/06/15/bengaluru-28-2026-06-15-12-11-59.jpg)
এবেলা ডেস্কঃ
বেঙ্গালুরু: “আমার সঙ্গে ফিরে এসো, নয়তো খুন করে ফেলব!”— নিজের রেকর্ড করা ভিডিও বার্তার সেই ভয়ঙ্কর হুমকিই সত্যি করল স্বামী। নিজের দুই সন্তান ও শাশুড়ির চোখের সামনেই স্ত্রীকে ২০ বারেরও বেশি ছুরি মেরে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বেঙ্গালুরুর মহাদেবপুরা এলাকার এই হাড়হিম করা ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মহিলার নাম মঞ্জুলা (৩২)। তিনি মহাদেবপুরা থানায় হোম গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্ত স্বামীর নাম প্রদীপ।
অনলাইন বেটিং ও সন্দেহের জের:
তদন্তে জানা গেছে, ১৫ বছর আগে মঞ্জুলা ও প্রদীপের বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, প্রদীপ মারাত্মকভাবে অনলাইন বেটিং বা জুয়ায় আসক্ত ছিলেন, যার জেরে সংসারে প্রায়ই অশান্তি হতো। এর পাশাপাশি তিনি স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করতেন এবং সন্তানদের পিতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলতেন। স্বামীর এই চরম অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গত দেড় মাস ধরে মঞ্জুলা সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়িতে থাকছিলেন।
পায়ে ধরে ক্ষমা, তারপরই ২০ বার কোপ!
রবিবার জ্যাকেটের ভেতর ছুরি লুকিয়ে শ্বশুরবাড়িতে হাজির হন প্রদীপ। সেখানে প্রথমে তিনি মঞ্জুলার পায়ে পড়ে ক্ষমা চান এবং তাঁকে ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু মঞ্জুলা রাজি না হতেই আচমকা হিংস্র রূপ ধারণ করেন প্রদীপ। মা ও সন্তানদের সামনেই পকেট থেকে ছুরি বের করে মঞ্জুলাকে ২০ বারেরও বেশি কোপাতে শুরু করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি, মৃত্যু হয় মঞ্জুলার।
খুনের আগে রেকর্ড করেন ভিডিও বার্তা:
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আগে প্রদীপ একটি ভিডিও বার্তা রেকর্ড করেছিলেন। সেখানে তিনি স্বীকার করেন যে অনলাইন বেটিংয়ের নেশাই তাঁর সংসার ধ্বংস করেছে। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি স্ত্রীকে ছাড়া বাঁচব না। আজ ও কাজ থেকে ফিরলে শেষবার আমার কাছে ফিরে আসতে বলব। যদি ও না বলে, তবে ওকে সেখানেই মেরে ফেলব।”
স্ত্রীকে খুনের পর প্রদীপ ওই একই ছুরি দিয়ে নিজের হাত কেটে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন। তবে পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘাতক স্বামীকে গ্রেফতার করেছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
