চিন ও পাকিস্তানের ঘুম ওড়াতে ভারতের আকাশে নয়া ‘টমাহক’, প্রতিরক্ষায় বিপুল শক্তির উত্থান! – এবেলা

চিন ও পাকিস্তানের ঘুম ওড়াতে ভারতের আকাশে নয়া ‘টমাহক’, প্রতিরক্ষায় বিপুল শক্তির উত্থান! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সোমবার ওড়িশা উপকূলে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ করেছে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)। মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্রের সমতুল্য এই আধুনিক অস্ত্রটি ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে। যদিও ক্ষেপণাস্ত্রটির বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০০০ থেকে ১৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটির সরাসরি আওতায় চলে এসেছে প্রতিবেশী চিন ও পাকিস্তানের একটি বিরাট অংশ।

রণকৌশলে ‘স্ট্যান্ড-অফ’ অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা

সাম্প্রতিক রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত, ইরান যুদ্ধ কিংবা অপারেশন সিঁদুরের মতো আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানগুলো বিশ্বজুড়ে ‘স্ট্যান্ড-অফ’ বা নিরাপদ দূরত্ব থেকে নিখুঁত আঘাত হানার অস্ত্রের গুরুত্ব প্রমাণ করেছে। আধুনিক যুদ্ধের এই পরিবর্তিত কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়েই ভারত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে, যা মূলত ‘নির্ভয়’ ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিরই একটি অত্যন্ত উন্নত সংস্করণ। এটি অত্যন্ত বহুমুখী ক্ষমতাসম্পন্ন, যা স্থলভিত্তিক লঞ্চার, যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন—সব ধরনের সামরিক প্ল্যাটফর্ম থেকেই নিখুঁতভাবে নিক্ষেপ করা সম্ভব। আমেরিকার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র যেভাবে নিচু উচ্চতায় সাবসনিক গতিতে উড়ে গিয়ে শত্রুশিবিরে আঘাত হানে, ভারতের এই দেশীয় প্রযুক্তিও সেই বিশ্বমানের সমরক্ষমতার দিকেই বড় পদক্ষেপ।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব

ডিআরডিও এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি তার সমস্ত পরিচালনগত ও কারিগরি লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জন করেছে। তবে সামরিক বাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্তির আগে আরও কিছু চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকি থাকায় এর জন্য আরও প্রায় দু’ বছর সময় লাগবে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সংযুক্তি ভারতের সামরিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে এমন এক কৌশলগত সুবিধা দেবে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো সীমান্ত সংঘাতের সময়ে চিন ও পাকিস্তানের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ বলয় গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *