চিপসের লোভ দেখিয়ে নাবালিকাদের ধর্ষণ, ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই ফাঁস ঘাটালের দোকানদারের কুকীর্তি!

চিপসের লোভ দেখিয়ে নাবালিকাদের ধর্ষণ, ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই ফাঁস ঘাটালের দোকানদারের কুকীর্তি!

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমার দাসপুর থানার রাধাকান্তপুর এলাকায় এক হাড়হিম করা ঘটনার খবর প্রকাশ্যে এসেছে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির একাধিক নাবালিকাকে চিপস ও কুড়কুড়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক দোকানদারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বাসুদেব মাইতিকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে এবং আদালত তাকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

প্রলোভন ও ব্ল্যাকমেইল

রাধাকান্তপুর উচ্চবিদ্যালয়ের কাছেই একটি ছোট খাবারের দোকান চালাতেন বাসুদেব মাইতি। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই দোকানের আড়ালেই চলত পৈশাচিক নির্যাতন। লোভনীয় খাবারের টোপ দিয়ে নাবালিকাদের ভেতরে ডেকে নিয়ে সে শারীরিক নির্যাতন চালাত এবং সেই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করে রাখত। সেই আপত্তিকর ভিডিও দেখিয়ে নির্যাতিতাদের মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করত সে। এমনকি এই ভিডিও মোটা টাকায় বিক্রির অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।

যেভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কুকীর্তি ফাঁস হয়ে যায় একটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে। অভিযুক্ত বাসুদেব ভুলবশত গ্রামেরই অন্য এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় স্তরে বিষয়টি সালিশি সভার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, এক নির্যাতিতার পরিবারের সাহসিকতায় পুলিশি হস্তক্ষেপ সম্ভব হয়। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা।

আইনি পদক্ষেপ ও প্রভাব

ঘাটাল মহকুমার পুলিশ আধিকারিক নীলেশ শ্রীকান্ত গাইকোয়াড় জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), পকসো (POCSO) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশের জেরায় অভিযুক্ত ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রীদের ওপর নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে। এই ঘটনায় এলাকায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরাপত্তার খাতিরে অভিযুক্তের দোকানটি বন্ধ করে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

এক ঝলকে

  • চিপস ও কুড়কুড়ের লোভ দেখিয়ে একাধিক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বাসুদেব মাইতি গ্রেফতার।
  • নির্যাতনের আপত্তিকর ভিডিও ভুলবশত গ্রামের অন্য এক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে দেওয়ায় ঘটনাটি সামনে আসে।
  • অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করে ৩ দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর।
  • সালিশি সভার মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠলেও শেষ পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *