চীনও ফেরাতে পারল না ভাগ্য: ধুঁকছে পাকিস্তানের অর্থনীতি, ভেস্তে গেল ৫ লাখ চাকরির স্বপ্ন!

পাকিস্তানের দেউলিয়া প্রায় অর্থনীতি এবং সরকারি প্রতিশ্রুতির অন্তসারশূন্যতা এবার খোদ দেশটির মন্ত্রীরাই স্বীকার করে নিচ্ছেন। বিনিয়োগ মন্ত্রী কায়সার আহমেদ শেখ সম্প্রতি জানিয়েছেন, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাকিস্তান প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ হারিয়েছে। এই বিপুল বিনিয়োগ মূলত চিন থেকে আসার কথা ছিল। এই সুযোগ হারানোর ফলে পাকিস্তানে অন্তত ৫ লাখ শিল্প কর্মসংস্থানের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন পুরোপুরি ধূলিসাৎ।
ব্যর্থতার মূলে অবকাঠামো ও নীতিগত দুর্বলতা
চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপেক-কে একসময় পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ বলা হলেও, বর্তমানে এটি কেবল ঋণের বোঝায় পরিণত হয়েছে। চিন থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সড়ক ও বিদ্যুৎ প্রকল্প শুরু হলেও শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে ইসলামাবাদ। চিনা কো ম্পা নিগুলোর জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও এক দশক পর মাত্র চারটি ক্ষেত্র সামান্য অগ্রগতি পেয়েছে। ফলে চিনের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা পাকিস্তানে কারখানা স্থাপনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে তুলনায় পিছিয়ে পাকিস্তান
যেখানে ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলো স্থিতিশীল নীতি ও শক্তিশালী শিল্প কাঠামোর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে, সেখানে পাকিস্তান রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার বৃত্তে আটকে আছে। চিনা কো ম্পা নিগুলো পাকিস্তানে শিল্প স্থাপন করে রপ্তানি বাড়ানোর পরিবর্তে কেবল স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। নীতি-নির্ধারকদের অদূরদর্শিতা এবং বারবার সুযোগ হাতছাড়া করার ফলে চিনের মতো ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশও এখন পাকিস্তানে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে দ্বিধাবোধ করছে।
এক ঝলকে
- ২০১৮-২৪ সালের মধ্যে পাকিস্তান ৮ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ ও ৫ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছে।
- শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা এসইজেড নির্মাণে চরম ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে।
- সিপেক প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়ন আসার বদলে উল্টো বিদেশি ঋণের বোঝা বেড়েছে কয়েক গুণ।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতির কারণে বিনিয়োগকারীরা ভিয়েতনাম বা বাংলাদেশের মতো দেশকে বেছে নিচ্ছেন।
