চেন্নাইয়ে দ্রমুকের ওপর জেপি নাড্ডার তীব্র তোপ!

তামিলনাড়ুর শাসনব্যবস্থা নিয়ে কড়া আক্রমণ জেপি নাড্ডার: ডিএমকে-কে ‘পরিবারবাদী’ দল হিসেবে চিহ্নিত করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা। মঙ্গলবার চেন্নাইয়ে তামিল নববর্ষ এবং ডক্টর বিআর আম্বেদকরের ১৩৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ডিএমকে সরকারের শাসনব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার এই বক্তব্য রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং আগামী নির্বাচনের রণকৌশলকে স্পষ্ট করে দিয়েছে।
সাংস্কৃতিক গৌরব বনাম অপরাধের বৃদ্ধি
চেন্নাই ঐতিহাসিকভাবে ভারতের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে জেপি নাড্ডার মতে, বর্তমান সরকারের আমলে এই পরিচিতি মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। তার বিশ্লেষণের মূল দিকগুলো হলো:
- তামিলনাড়ুর প্রাচীন সভ্যতা ও সংস্কৃতি নিয়ে গোটা ভারত গর্বিত, কিন্তু বর্তমান শাসনব্যবস্থা সেই গৌরবকে ম্লান করছে।
- মন্ত্রীর দাবি, ডিএমকে-র আমলে চেন্নাই ধীরে ধীরে ‘অপরাধের রাজধানীতে’ পরিণত হচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও উদ্বেগের কারণ।
- রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ক্রমবর্ধমান সামাজিক অস্থিরতা সামগ্রিকভাবে তামিলনাড়ুর ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।
পরিবারতন্ত্র ও শাসনের দায়বদ্ধতা
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে জেপি নাড্ডা ডিএমকে-কে একটি আদর্শহীন ‘পারিবারিক দল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি স্ট্যালিন, উদয়নিধি এবং কানিমোঝির নেতৃত্বের উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন যে, দলের ক্ষমতা কেবল একটি নির্দিষ্ট পরিবারের হাতে সীমাবদ্ধ।
নাড্ডার মতে, এই ধরনের বংশানুক্রমিক শাসনব্যবস্থা সাধারণ মানুষের প্রতি রাজনৈতিক দলের দায়বদ্ধতা কমিয়ে দেয়। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার নারী, তরুণ প্রজন্ম এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন ও বিজেপির কৌশল
আগামী ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এদিন বিজেপির একটি বিশেষ ইশতেহার ‘কমল কে বাদে ২০২৬’ (২০২৬ সালে পদ্মের প্রতিশ্রুতি) প্রকাশ করা হয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্য রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চায় বিজেপি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে নাড্ডা জানান:
- সামাজিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে ডক্টর আম্বেদকরের আদর্শই হবে তাদের প্রধান অনুপ্রেরণা।
- কেবল উন্নয়নমূলক রাজনীতির মাধ্যমেই রাজ্যের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
- তামিল নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এক ঝলকে
- ডিএমকে সরকারের অধীনে তামিলনাড়ুতে অপরাধ বৃদ্ধির গুরুতর অভিযোগ।
- চেন্নাইয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর গভীর উদ্বেগ।
- ডিএমকে-কে ‘পরিবারবাদী’ দল হিসেবে তীব্র আক্রমণ।
- ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপির বিশেষ নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ।
- নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার।
