ছাপ্পা ভোট ও সন্ত্রাস রুখতে জেলা প্রশাসনের নজিরবিহীন তৎপরতা
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মূলত অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ ভোটদান নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। এবারের নির্বাচনে সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার এবং নজরদারির ওপর। জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের উপস্থিতিতে এক জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে এই প্রস্তুতির রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
স্পর্শকাতর বুথে ত্রিস্তরীয় নজরদারি
নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কলঙ্কমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। জেলার প্রতিটি স্পর্শকাতর এলাকা এবং বুথ চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
- অতিরিক্ত স্পর্শকাতর বুথগুলোতে মোতায়েন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশেষ দল।
- নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি স্পর্শকাতর বুথে তিনটি পর্যন্ত নজরদারি ক্যামেরা বা সিসিটিভি বসানো হবে।
- দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মোতায়েন থাকবে কুইক রেসপন্স টিম (QRT)।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাপট ও এলাকা দখল
ভোটারদের মনে আস্থা ফেরাতে এবং ভয়ের পরিবেশ দূর করতে জেলাজুড়ে প্রায় ২০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত রুট মার্চ বা এরিয়া ডমিনেটিং করছেন। এছাড়াও প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশেষ যানও জেলায় আনা হয়েছে। সীমান্ত এলাকাগুলোতে কড়া পাহারা বসানো হচ্ছে এবং ভোটের আগে সীমান্ত সিল করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা
ভোটের দু’দিন আগে থেকেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের কার্যত ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাদের কোনওভাবেই যুক্ত করা হবে না। এই পদক্ষেপটি মূলত নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি জানানো হয়েছে:
- কোনও সরকারি কর্মী ভোট গ্রহণে বাধা দিলে বা কারচুপিতে মদত দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- সিভিক ভলান্টিয়ারদের পোশাক সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।
বিশেষ ভোটারদের জন্য সহজ ব্যবস্থা
গণতন্ত্রের উৎসবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বের প্রবীণ নাগরিক এবং শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের জন্য বাড়িতে গিয়ে ভোট নেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। এছাড়া নারী ক্ষমতায়নের বার্তা দিতে জেলায় এক হাজারেরও বেশি বুথ সম্পূর্ণভাবে নারীদের দ্বারা পরিচালিত হবে।
কেন এই কঠোরতা
বিগত নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রশাসন এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। ছাপ্পা ভোট আটকানো এবং ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার যে কোনও চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করার বার্তা দিয়েছেন জেলাশাসক শিল্পা গৌরী সারিয়া। মূলত রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করতেই এই অভূতপূর্ব প্রশাসনিক তৎপরতা।
এক ঝলকে
- জেলায় মোতায়েন প্রায় ২০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
- ভোটের দু’দিন আগে থেকেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের নির্বাচনী কাজে নিষেধাজ্ঞা।
- স্পর্শকাতর বুথে ৩টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও কিউআরটি মোতায়েন।
- প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য হোম ভোটিং-এর সুবিধা।
- জেলায় ১০০০-এর বেশি মহিলা পরিচালিত বুথ থাকছে।
- ভোটের আগে আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য সীমান্ত সিল করার প্রস্তুতি।
