ছোট দিওয়ালির আসল রহস্য! কেন ১৬,১০৮ জন নারীকে বন্দি করেছিল নরকাসুর?

এবেলা ডেস্কঃ
নরকাসুর বধ ও নরক চতুর্দশীর পৌরাণিক প্রেক্ষাপট
নিজস্ব প্রতিবেদক: সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পৌরাণিক উপাখ্যান অনুযায়ী, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিটি ‘নরক চতুর্দশী’ হিসেবে পালিত হয়। এই বিশেষ দিনটির নেপথ্যে রয়েছে প্রাগজ্যোতিষপুরের শাসক অসুর নরকাসুরের বিনাশ এবং ১৬,১০৮ জন বন্দি নারীর মুক্তির ইতিহাস।
পৌরাণিক কথন অনুযায়ী, প্রাচীনকালে প্রাগজ্যোতিষপুরের অধিপতি নরকাসুর তার বিপুল দৈহিক শক্তি ও প্রাপ্ত বরের অহংকারে মর্ত্য ও স্বর্গলোকে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। তার অত্যাচারে ঋষি-মুনি থেকে শুরু করে স্বর্গের দেবতারাও তটস্থ থাকতেন। চরম ঔদ্ধত্যের বশবর্তী হয়ে সে বিভিন্ন রাজপরিবারের কন্যা, ঋষিকন্যা ও অপ্সরাসহ মোট ১৬,১০৮ জন নারীকে অপহরণ করে নিজের প্রাসাদে বন্দি করে রেখেছিল। তার অত্যাচারে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা নিরসনে দেবরাজ ইন্দ্র ও ঋষিগণ দ্বারকাধীশ শ্রীকৃষ্ণের দ্বারস্থ হন।
নরকাসুরকে এক বিশেষ বর দেওয়া হয়েছিল যে, সে কেবলমাত্র কোনো নারীর হাতেই নিহত হবে। এই বিধিসম্মত বিধান মেনেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ধর্মপত্নী সত্যভামাকে সঙ্গে নিয়ে প্রাগজ্যোতিষপুরে যুদ্ধযাত্রা করেন। দেবী সত্যভামার সহায়তা ও শ্রীকৃষ্ণের সুদর্শন চক্রের আঘাতে নরকাসুরের পতন ঘটে এবং তার তাণ্ডবের অবসান হয়।
অসুর বধের পর শ্রীকৃষ্ণ ওই ১৬,১০৮ জন বন্দি নারীকে মুক্ত করেন। তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতায় মুক্ত হওয়া এই নারীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার্থে শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের সবাইকে পত্নী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন। অসুরের হাত থেকে নারীদের এই মুক্তি ও অন্ধকার বিনাশের জয়োৎসব হিসেবেই মর্ত্যে প্রদীপ জ্বালানো হয়। সেই পৌরাণিক প্রথা মেনেই কার্তিক চতুর্দশী তিথিতে ‘নরক চতুর্দশী’ বা ‘ছোটি দিওয়ালি’ উদযাপিত হয়ে আসছে।
