জনরোষের মুখে অভিষেক, সোনারপুরের নিহত তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধেই ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের কামরাবাঁধ এলাকায় নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার পথে প্রবল জনরোষের মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় দলীয় সাংসদকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সাংসদকে ঘিরে রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। তবে এই ঘটনার পর নিহত তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধেই দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তাঁর নিজের আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা।
এলাকার ‘ত্রাস’ ও শাহজাহান তুলনা
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিহত সঞ্জু কর্মকার আদতে সোনারপুর এলাকার একচ্ছত্র ‘ত্রাস’ ছিলেন। তাঁর দাপটে দীর্ঘদিন ধরে তটস্থ থাকতে হতো সাধারণ মানুষকে। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, এলাকায় মদ-গাঁজার আসর বসানো, নারীদের উত্যক্ত করা এবং বেআইনি জমির দালালি ছিল সঞ্জুর নিত্যদিনের কাজ। এমনকি এলাকায় পাকা রাস্তা তৈরি এবং আলো লাগানোর মতো উন্নয়নমূলক কাজেও সে বাধা দিত বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি এতটাই চরমে ছিল যে, স্থানীয়রা তাঁকে সন্দেশখালির বিতর্কিত নেতা শাহজাহানের সঙ্গে তুলনা করছেন। স্থানীয় কাউন্সিলর ও প্রভাবশালী নেতাদের মদতেই সঞ্জুর এই বাড়বাড়ন্ত হয়েছিল বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
ভোটের হুমকি ও রহস্যময় মৃত্যু
অভিযোগ উঠেছে, লোকসভা ভোটের ফলপ্রকাশের ঠিক আগের দিনও সঞ্জু কর্মকার দলবল নিয়ে এসে এলাকার সাধারণ মানুষকে ৪ তারিখের পর খুন করার হুমকি দিয়েছিল। এদিকে, ভোট-পরবর্তী হিংসায় সঞ্জুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, তাঁর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে খোদ প্রতিবেশীদের মনেই। স্থানীয়দের বক্তব্য, মার খাওয়ার পরও সঞ্জু এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল, ফলে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু কীভাবে হলো তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি হাসপাতাল থেকে তাঁর মৃতদেহ এলাকায় আনা হয়নি। শনিবারের নজিরবিহীন উত্তেজনার পর রবিবার সকাল থেকেই সঞ্জুর বাড়ির গেটে তালা ঝুলতে দেখা গেছে, যা নিয়ে এলাকায় নতুন করে রহস্য দানা বেঁধেছে।
