জনশ্রুতির যাঁতাকলে সাধারণ মানুষ! অন্যের কথায় কান দিলে কি নিজের বুদ্ধিও লোপ পায়? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সামাজিক লোকলজ্জা আর অন্যের অযাচিত উপদেশের চাপে পড়ে মানুষ কীভাবে নিজের কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলে, তার এক চিরন্তন চিত্র ফুটে উঠেছে এক পিতা, পুত্র ও গাধার গল্পে। সমাজের এক শ্রেণির মানুষের কাজই হলো অন্যের প্রতিটি পদক্ষেপে খুঁত ধরা। আপনি যাই করুন না কেন, সমালোচকদের একাংশ তাতে নেতিবাচক কিছু খুঁজে বের করবেই। হিমাচলের এক গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি এমনই এক মানসিক টানাপোড়েনের উদাহরণ সামনে এসেছে, যা আমাদের সামাজিক আচরণের গভীর সংকটকে প্রতিফলিত করে।
জনমতের গোলকধাঁধায় কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত
একটি গাধাকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে বাজারে যাওয়ার সময় এক পিতা ও পুত্র ক্রমাগত পথচারীদের ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্যের শিকার হন। কখনও ছেলেকে গাধায় চড়তে দেখে পিতাকে আসাম্মান করার অপবাদ দেওয়া হয়, আবার কখনও পিতা একা গাধায় বসলে তাকে ‘নির্দয়’ তকমা দেওয়া হয়। জনরোষ থেকে বাঁচতে তারা যখন দুজনেই গাধার পিঠে চড়েন, তখন ধেয়ে আসে পশু নির্যাতনের অভিযোগ। পরিস্থিতির চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত তারা কোনো কূল না পেয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে বাধ্য হন। এটি প্রমাণ করে যে, অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিলে তা প্রায়ই লক্ষ্যহীন ও হঠকারী হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধি ও সামাজিক প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যের দেওয়া পরামর্শ বা টিপ্পনী যখন ব্যক্তিগত যুক্তিবোধের ওপর প্রাধান্য পায়, তখন মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এই ঘটনার মূল শিক্ষা হলো, সমাজের সব স্তরের মানুষকে সন্তুষ্ট করা আসাম্ভব। অন্যের কথায় কর্ণপাত না করে নিজের বিবেক ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। অহেতুক সমালোচনা সহ্য করার ভয়ে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিলে দিনশেষে পস্তাতে হয় নিজেকেই। তাই সামাজিক চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করা জরুরি।
এক ঝলকে
- জনসমালোচনার ভয়ে পথচারীদের একেক সময় একেক পরামর্শ মেনে নাজেহাল হন বাবা ও ছেলে।
- সবাইকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেদের মূল উদ্দেশ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য ব্যাহত হয়।
- ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, লোকলজ্জার ভয়ে অন্যের কথা অন্ধভাবে অনুসরণ করা বোকামি।
- নিজের প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ব্যক্তিগত সাফল্যের চাবিকাঠি।
