জমি ওপার বাংলায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা, ফেন্সিং বিতর্কে এবার হাই কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন গ্রামবাসীরা! – এবেলা

জমি ওপার বাংলায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা, ফেন্সিং বিতর্কে এবার হাই কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন গ্রামবাসীরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আন্তর্জাতিক সুরক্ষার স্বার্থে উত্তর চব্বিশ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর প্রশাসনিক উদ্যোগ ঘিরেই এখন তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের ভূমি ও ভূমি-রাজস্ব দপ্তর কৈজুড়ি থেকে আরশিকারি পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার খোলা সীমান্তে জমি জরিপের কাজ শুরু করেছে। তবে এই সম্ভাব্য ফেন্সিং বা বেড়ার অবস্থান নিয়ে গভীর আপত্তি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, প্রশাসনের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলে ভারতীয় ভূখণ্ডের এক বিশাল অংশ এবং সাধারণ মানুষের বসতভিটে ওপার বাংলার সীমারেখায় চলে যেতে পারে। এই সমস্যার কোনো সমাধান না হওয়ায় এবার আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।

ভিটেমাটি হারানোর ভয় ও আন্তর্জাতিক নিয়মের জট

গ্রামবাসীদের মূল অভিযোগ হলো, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে ১৫০ গজ দূরে ফেন্সিং করার কথা থাকলেও, কিছু এলাকায় তার চেয়ে অনেক বেশি ভিতরে বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর ফলে আরশিকারি, পদ্মবিলা, দোহারকান্দা, হাকিমপুর ও তারালি-সহ একাধিক সীমান্তবর্তী গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, স্কুল, মন্দির, মসজিদ এবং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র বেড়ার ওপারে চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁরা দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিরোধী নন। কিন্তু নিয়ম লঙ্ঘন করে যেভাবে বেড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, তাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি

সীমান্তের এই জটিলতা নিয়ে মাসকয়েক আগে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) সঙ্গে গ্রামবাসীদের আলোচনা হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান সূত্র মেলেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই এই সীমান্ত ফেন্সিংয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অধিকার ও জমি রক্ষা করতে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন গ্রামবাসীরা এবং দ্রুতই কলকাতা হাই কোর্টে একটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একদিকে সীমান্ত সুরক্ষার তাগিদ আর অন্যদিকে নাগরিকদের অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সমগ্র সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *