জমি জবরদখলে চরম বিপাকে বিদ্রোহী সাংসদ ইউসুফ পাঠান! বড় পদক্ষেপ পুরসভার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আহমেদাবাদ: সদ্য তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ছেড়ে এনসিপিআই-তে (NCPI) যোগ দেওয়া বিদ্রোহী সাংসদ ইউসুফ পাঠানের রাজনৈতিক ও আইনি অস্বস্তি আরও বাড়ল। জমি জবরদখল মামলায় এবার এই প্রাক্তন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটল ভাদোদরা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (VMC)।
শুক্রবার পুরসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি ইউসুফ পাঠানের দখলে থাকা ভাদোদরার তান্ডালজা এলাকার একটি প্লটের কড়া বাজারমূল্য নির্ধারণ করেছে। জানা গিয়েছে, ৯৭৮ বর্গমিটার আয়তনের ওই বিপুল জমির দাম প্রতি বর্গমিটারে ২.১০ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
কী নিয়ে বিতর্ক?
২০১২ সালে ভিএমসি-র একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই সরকারি জমিটি নিজের দখলে নিয়েছিলেন ইউসুফ পাঠান। কিন্তু পরে রাজ্য সরকারের কাছে সেই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য গেলে তা খারিজ হয়ে যায়। অভিযোগ, তা সত্ত্বেও দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে বেআইনিভাবে জমিটি নিজের দখলেই রেখে দিয়েছিলেন তিনি। এই নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৎকালীন বিজেপি কাউন্সিলর বিজয় পওয়ার।
নিলামের পথে পুরসভা?
ভিএমসি-র সেক্রেটারি চিন্তন দেশাই জানিয়েছেন, কোনও জমি নিলামে তোলার আগে নিয়ম মেনে এভাবেই তার মূল্যায়ন করা হয়। ভিএমসি, রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি এই দাম নির্ধারণ করেছে। আগামী জুলাই মাসে পুরসভার সাধারণ সভায় এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। একবার মূল্যায়ন হলে তা তিন বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে। তবে এখনই জমিটি নিলাম করা হবে কি না, তা নিয়ে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আদালতেও জোর ধাক্কা:
উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরেই ইউসুফকে জমি খালি করার আইনি নোটিশ দেয় ভাদোদরা পুরসভা। এর বিরুদ্ধে তিনি গুজরাট হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও স্বস্তি মেলেনি। সিঙ্গল বেঞ্চ রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। এরপর ডিভিশন বেঞ্চে গেলে আদালত তাঁকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করে মৌখিকভাবে জানায়, ২০১২ সাল থেকে বেআইনিভাবে জমিটি আটকে রাখার জন্য তাঁকে মোটা অঙ্কের খেসারতও দিতে হতে পারে! সব মিলিয়ে, নয়া রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝেই চরম কোণঠাসা দাপুটে এই সাংসদ।
