জাতিসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধোনা ভারতের, নরসংহারকে সামরিক অভিযান বলায় তীব্র ভর্ৎসনা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) মঞ্চে দাঁড়িয়ে আফগানিস্তানের বর্তমান সংকট নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল ভারত। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পর্বতনেনি হরিশ পাকিস্তানকে সরাসরি ‘ঘৃণা ছড়ানোর সংগঠিত কারখানা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা ও আকাশপথে হামলার তীব্র সমালোচনা করে ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ও শিশুদের অনাথ করে তোলাকে কোনোভাবেই ‘সামরিক অভিযান’ বলা যায় না। এটি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং পাকিস্তানের দ্বিচারিতার এক প্রকট উদাহরণ।
মিথ্যা বয়ান ও অভ্যন্তরীণ সংকটের আড়াল
বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করতে ভারত-বিদ্বেষী প্রচার চালাচ্ছে। বিশেষ করে, ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’-এর মতো ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার করে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে পাকিস্তান বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে দাবি ভারতের। পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে মানবাধিকারের কথা বললেও পবিত্র রমজান মাসে আফগানিস্তানে নির্বিচারে আকাশপথে হামলা চালিয়েছে। ভারত মনে করে, পাকিস্তানের এই হীন কৌশলের উদ্দেশ্য হলো নিজস্ব নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে ভারতের ওপর দায় চাপানো।
সীমান্তের ওপারে রক্তপাত ও বাণিজ্যে বাধা
২০২৬ সালে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হন। পরিস্থিতির আরও অবনতি হয় মার্চ মাসে, যখন সীমান্ত সংঘাত ও বোমাবর্ষণে কয়েক শ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং এক লাখেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হন। এমনকি একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে হামলার ঘটনাও ঘটে, যেখানে শত শত মানুষ প্রাণ হারান। ভারত এই ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। এছাড়া, আফগানিস্তানের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে দেশটির বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করায় পাকিস্তানকে ‘বাণিজ্য ও ট্রানজিট সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছে নয়াদিল্লি। আফগান জনগণের সহায়তায় ভারত নিরবচ্ছিন্নভাবে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়ে মানবিকতার নজির স্থাপন করলেও, পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবি ভারতের।
