‘জাত তুলে হেনস্থা’ নাকি টুকলি ধরায় শাস্তি? IIT বম্বেতে পড়ুয়ার আত্মহত্যা ঘিরে নজিরবিহীন উত্তেজনা! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
September 23, 202610:32 am
মুম্বই: আইআইটি বম্বে (IIT Bombay)-র হস্টেল থেকে ২২ বছরের পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোড়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। একদিকে জাত-বৈষম্যের অভিযোগে অভিযুক্ত অধ্যাপকের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব মৃত ছাত্রের পরিবার, অন্যদিকে সেই শিক্ষকের পাশে দাঁড়িয়ে পাল্টা বিক্ষোভে নেমেছেন প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষক ও পড়ুয়াদের একাংশ।
ঠিক কী ঘটেছিল? গত ১৮ সেপ্টেম্বর হস্টেল থেকে উদ্ধার হয় সাহিলের দেহ। কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ও ChatGPT-র সাহায্যে টুকলি করার অভিযোগে সাহিলকে হল থেকে বের করে দিয়েছিলেন পর্যবেক্ষক অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা। পরে সাহিলকে কাউন্সেলিং করা হয় এবং কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
অভিভাবকদের গুরুতর অভিযোগ: সাহিলের বাবা রবীন্দ্র ও মা সোনালি মিডিয়ার সামনে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তাঁদের দাবি, অধ্যাপক দুল্লা ও প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর শিরীশ কেদারে সাহিলকে জাত তুলে অপমান করতেন। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ মানতে নারাজ পরিবার। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, অভিযুক্ত অধ্যাপক ও ডিরেক্টরকে গ্রেপ্তার করলেই আসল সত্য সামনে আসবে।
শিক্ষক ও পড়ুয়াদের পাল্টা যুক্তি: পরিবারের চাপের মুখে আইআইটি কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক দুল্লাকে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাফেয়ার্সের ডিন পদ থেকে সরিয়ে দেয়। কিন্তু এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ফ্যাকাল্টি মেম্বাররা।
- ফ্যাকাল্টি ফোরামের বক্তব্য: ফোরামের প্রধান রাজকুমার পন্থ জানান, ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তেও সাহিলের মোবাইল ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। টুকলি রোখার অপরাধে একজন শিক্ষককে পদচ্যুত করা পুরো শিক্ষক সমাজের জন্য লজ্জাজনক।
- পড়ুয়াদের দাবি: তৃতীয় বর্ষের ছাত্র উৎকর্ষ জানান, উত্তরপত্রে নাম থাকে না, কেবল রোল নম্বর থাকে। ফলে রোল নম্বর দেখে জাতভিত্তিক বৈষম্য করা আসাম্ভব। প্রতিবাদী পড়ুয়ারা জানান, তাঁরা অধ্যাপকের বিরুদ্ধে নন, প্রতিষ্ঠানের সার্বিক মানসিক স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামোগত সংস্কারের দাবিতেই সরব হয়েছিলেন।
সমাধানের খোঁজে অভিনব উদ্যোগ: বিতর্কের মাঝেই আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষ ছাত্র আত্মহত্যা রুখতে এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে। সূত্রের খবর, ক্যাম্পাসের সমস্ত হস্টেল রুম থেকে সিলিং ফ্যান খুলে ফেলে ওয়ালে লাগানো ফ্যানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে গত ছ’মাসে এই একই ক্যাম্পাসে ৩ জন ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—শুধুমাত্র ফ্যান বদলালেই কি এত গভীর সমস্যার সমাধান সম্ভব?
