‘জাস্টিস ফর আরজি কর’, বর্ধমান মেডিকেলের দেওয়াল লিখন ২৪ ঘণ্টায় মোছার কড়া নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর! – এবেলা

‘জাস্টিস ফর আরজি কর’, বর্ধমান মেডিকেলের দেওয়াল লিখন ২৪ ঘণ্টায় মোছার কড়া নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বর্ধমান: আরজি কর কাণ্ডের পর দু’বছর পার হলেও সুবিচারের দাবিতে সরব প্রতিবাদী কণ্ঠগুলো। একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী বলছেন ‘অভয়াকে ভুলিনি’, ঠিক তখনই মুদ্রার উল্টো পিঠের এক অন্য ছবি সামনে এল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে। চত্বরের দেওয়ালজুড়ে থাকা ‘জাস্টিস ফর আরজি কর’, ‘স্টপ রেপ কালচার’, কিংবা ‘শিরদাঁড়া বিক্রি নেই’-এর মতো রাজনৈতিক ও সামাজিক স্লোগান আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুছে ফেলার নির্দেশ দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

পর পর দু’দিন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে আচমকা সারপ্রাইজ ভিজিটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে গিয়ে হাসপাতালের সামগ্রিক নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরিচ্ছন্নতার বিচারে বর্ধমান মেডিক্যালকে ‘দশে শূন্য’ দিয়ে মন্ত্রী পরিষ্কার জানান, মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে আর কোনও রাজনৈতিক বা সামাজিক স্লোগান লেখা যাবে না। পরিবেশ সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালে দালালচক্র রুখতে কর্মী ও কর্তাদের জন্য ব্যাজ পরা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশও দেন তিনি।

তবে দেওয়াল মোছার নির্দেশের পর পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় বসে খানিকটা সুর নরম করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে তিনি সম্মান জানান। তাই পড়ুয়ারা যাতে কলেজ বা হাসপাতালের দেওয়াল নষ্ট না করে নিজেদের মতামত জানাতে পারেন, তার জন্য চত্বরে একটি নির্দিষ্ট বোর্ড তৈরি করে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এসএফআইসহ একাধিক ছাত্র সংগঠন। এসএফআই-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সৌভিক দাস বক্সী কটাক্ষ করে বলেন, “যেখানে সারা বাংলার মানুষ আরজি করের সুবিচারের জন্য রাজপথে নেমেছিল, সেখানে বিজেপি সমর্থিত মন্ত্রীর এই ফরমান প্রমাণ করে যে তারা তদন্তে ব্যর্থ এবং দোষীদের আড়াল করতে চাইছে। দেওয়াল লিখন মুছে দিয়ে এই গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সুবিচারের লড়াই থামানো যাবে না।”

উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিকাঠামো পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে মাঝেমধ্যেই এমন ঝটিকা সফর করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সম্প্রতি মালদহ মেডিক্যাল কলেজের চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও কুকুর-বিড়ালের উপদ্রব নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। সে বিষয়ে মন্ত্রী স্বীকার করেছেন, হাসপাতাল ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকায় সম্পূর্ণ উপদ্রবমুক্ত করা কঠিন হলেও প্রশাসন সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *