“জীবনযুদ্ধে হেরে গেলাম, দায়ী স্ত্রীই”: সুইসাইড নোটে কান্না ভেজা বার্তা, জঙ্গলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মর্মান্তিক পরিণতি! – এবেলা

“জীবনযুদ্ধে হেরে গেলাম, দায়ী স্ত্রীই”: সুইসাইড নোটে কান্না ভেজা বার্তা, জঙ্গলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মর্মান্তিক পরিণতি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা বর্তমান সমাজে পুরুষদের মানসিক চাপ ও পারিবারিক বিরোধের এক অন্ধকার দিক উন্মোচন করেছে। নিজের স্ত্রীর অবিরত মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রদ্যুম্ন যাদব (৩৩) নামে এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার কুসমি অরণ্য অঞ্চলের একটি গাছে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ইন্দোরে কর্মরত এই প্রকৌশলী আত্মহত্যার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তা প্রকাশ করায় ঘটনাটি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

পারিবারিক বিরোধ ও মামলার জের

২০১৭ সালে কুশীনগরের বাসিন্দা প্রদ্যুম্ন যাদবের সাথে অর্পিতা যাদবের বিয়ে হয় এবং তাদের পাঁচ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই দুজনের মধ্যে অমিল দেখা দেয়, যার জেরে অর্পিতা প্রদ্যুম্নর বিরুদ্ধে যৌতুক নির্যাতন ও খোরপোশের মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন ধরেই তারা আলাদা থাকছিলেন। গত ১০ মে মামলার শুনানির জন্য প্রদ্যুম্ন কুশীনগর আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। আদালত পরবর্তী শুনানির দিন জুলাইয়ের শেষে ধার্য করায়, চাকরির খাতিরে বারবার ছুটি নেওয়া এবং স্ত্রীর তরফ থেকে আসা ক্রমাগত চাপের কারণে তিনি চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।

মৃত্যুর আগে জলন্ত ভিডিও বার্তা

আদালত থেকে ফেরার পথে স্থানীয় একটি মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর নিকটবর্তী অরণ্যে গিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন প্রদ্যুম্ন। মৃত্যুর ঠিক আগে তিনি একটি ভিডিও রেকর্ড করে নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে পোস্ট করেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমি জীবনের লড়াইয়ে হেরে গেলাম, আর আমার এই পরিস্থিতির জন্য আমার স্ত্রী দায়ী।” একই সাথে তিনি তার দাদাকে অনুরোধ করেন যেন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের খেয়াল রাখা হয়। গত বৃহস্পতিবার বন থেকে নিথর দেহ উদ্ধারের পর পুলিশ মোবাইল ফোনের ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত শুরু করেছে।

এক ঝলকে

  • উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে স্ত্রীর মানসিক নির্যাতন ও মামলার চাপে প্রদ্যুম্ন যাদব নামে এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের আত্মহত্যা।
  • ২০১৭ সালে বিয়ের পর থেকেই দম্পতির মধ্যে বিবাদ চলছিল এবং স্ত্রীর দায়ের করা মামলার কারণে তীব্র মানসিক অবসাদে ছিলেন মৃত যুবক।
  • আত্মহত্যার আগে হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে ভিডিও পোস্ট করে নিজের মৃত্যুর জন্য স্ত্রীকে সরাসরি দায়ী করেন প্রদ্যুম্ন।
  • অরণ্য থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ ও ভিডিও বার্তার ওপর ভিত্তি করে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *