জেটি তৈরিতে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি, দুর্নীতির ঘুঘু ধরতে এবার এফআইআরের কড়া নির্দেশ অর্জুন সিংয়ের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গোটা রাজ্যজুড়ে জেটি নির্মাণে এক বিশাল দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং। তাঁর অভিযোগের মূল তির ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর দিকে। পরিবহন মন্ত্রীর দাবি, রাজ্যের অধিকাংশ জেটি নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের ঠিকাদারদের এবং ২০ লক্ষ টাকার জেটি নির্মাণে বিল করা হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির শিকড় উপড়ে ফেলতে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বিশ লক্ষের জেটিতে দেড় কোটির বিল!
পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে জেটি তৈরিতে সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা খরচ হওয়া উচিত, সেখানে সরকারি তহবিল থেকে দেড় কোটি টাকার বিল তোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সেই জেটিগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে। অভিযোগের আঙুল মূলত বিগত সরকারের আমলের দিকে। মন্ত্রীর প্রশ্ন, কেন পুরো বাংলার জেটি তৈরির একচেটিয়া বরাত শুধু ডায়মন্ড হারবারের ঠিকাদাররাই পাচ্ছেন? এই চক্রের পেছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ এবং ভেঙে পড়া পরিকাঠামো
বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখতে ডায়মন্ড হারবারের কুকরাহাটি জেটি ঘাটে গিয়ে দেখা যায় সাধারণ যাত্রীদের তীব্র ক্ষোভ। ২০২০ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে যাওয়ার পর এই জেটিটি নতুন করে সংস্কার করা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য কিছু টাইলস বসানো আর পাঞ্চিং মেশিন লাগানো ছাড়া সেখানে কোনো শৌচাগার বা পানীয় জলের ন্যূনতম ব্যবস্থাটুকুও নেই। যাত্রীদের দাবি, এক বছরের মাথায় নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে একাধিক জেটি। বিপুল অঙ্কের এই খরচের হিসাব কোনোভাবেই সাধারণ পরিকাঠামোর সাথে মিলছে না।
তদন্তের মুখে বিগত আমল ও পরবর্তী প্রভাব
এই দুর্নীতির খতিয়ান সামনে আসার পর রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী এই অভিযোগ প্রসঙ্গে জানান, তাঁর সাড়ে তিন বছরের মন্ত্রীত্বকালে সমস্ত কাজ নিয়মতান্ত্রিকভাবে এবং টেন্ডার ডেকেই করা হয়েছিল। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত সাপেক্ষ এবং তিনি তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে রাজ্যের সমস্ত সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সাথে, যদি এই কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে বহু প্রভাবশালী আধিকারিক ও ঠিকাদার বড়সড় আইনি জটিলতার মুখে পড়তে চলেছেন।
