জেলে বসে ‘মোবাইল-রাজ’! প্রেসিডেন্সির সুপার ও চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করলেন মুখ্যমন্ত্রী – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/15/suvendu-adhikari-2026-05-15-15-02-58.jpg?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের সংশোধনাগারগুলির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে জেলের ভেতরেই বন্দিদের স্মার্টফোন ব্যবহারের বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। প্রেসিডেন্সি থেকে দমদম— একাধিক সংশোধনাগারের অন্দরে বছরের পর বছর ধরে চলা এই সমান্তরাল অপরাধচক্রের হদিস মেলার পর নবান্নে কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার এবং চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, গোটা ঘটনার শিকড় খুঁজতে তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে সিআইডি-র হাতে।
নেপথ্যের কারণ ও জেলের নিরাপত্তা সংকট
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক নজরদারির অভাব এবং জেল আধিকারিকদের একাংশের পরোক্ষ প্রশ্রয়ের কারণেই এই বেআইনি কারবার চালানো সম্ভব হয়েছে। পুলিশি তল্লাশিতে ইতিমধ্যেই প্রেসিডেন্সি জেল থেকে প্রচুর মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, সন্দেশখালির শাহজাহান সহ একাধিক কুখ্যাত বন্দি জেলের ভেতরে বসেই নির্বিঘ্নে নিজেদের অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল। বিগত সরকারের ঢিলেঢালা মনোভাব এবং উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা কারাগারকে কার্যত নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা ‘সেফ হাউস’ হিসেবে ব্যবহার করছিল বলে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও প্রশাসনের কঠোর বার্তা
এই ঘটনার দূরগামী প্রভাব পড়তে চলেছে রাজ্যের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা এবং কারাগার শাসন ব্যবস্থার ওপর। জেলের কড়া নিরাপত্তা-বেষ্টনী টপকে কীভাবে দিনের পর দিন স্মার্টফোন ও সিম কার্ড ভেতরে পৌঁছল, তা খতিয়ে দেখতে সিআইডি তদন্ত শুরু করায় জেলের নিচুতলার কর্মীদের ওপরও কড়া নজরদারি বাড়বে। বাজেয়াপ্ত হওয়া সিম কার্ডগুলির মালিকানা যাচাইয়ের পাশাপাশি একটি নতুন আইনি নজির তৈরি হতে চলেছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, শুধু জেলের ভেতরের বন্দিরাই নয়, বাইরে থেকে যারা এই ফোনগুলির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত, তাদেরও অপরাধী হিসেবে গণ্য করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে জেলের ভেতর থেকে পরিচালিত অপরাধমূলক সিন্ডিকেটগুলির সমূলে উৎপাটন এবং জেল সংস্কার প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
