জোর করে চাপানো যাবে না স্মার্ট মিটার! রাজ্যের নির্দেশিকার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সরকারি কর্মীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মীদের আবাসনে স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার বসানোকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার আইনি লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে। রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক এক বাধ্যতামূলক নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে সিপিএম-সমর্থিত সরকারি কর্মচারী সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটি। আগামী ২৩ জুন বিচারপতি অমৃতা সিন্হার একক বেঞ্চে এই মামলার প্রাথমিক শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
নির্দেশিকা ঘিরে ক্ষোভ ও আইনি পদক্ষেপ
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি বিভিন্ন দফতর ও প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়, সরকারি কর্মচারী, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মী এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আবাসনে দ্রুত স্মার্ট মিটার বসাতে হবে। এই নির্দেশিকার তীব্র বিরোধিতা করে মামলাকারীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। মামলাকারীদের আইনজীবী সাগরিকা গোস্বামীর মাধ্যমে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে আদালত সরকারি কর্তৃপক্ষকে আইন ও জনস্বার্থ মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেয়। ইতিমধ্যে এই মামলার প্রাথমিক আইনি যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
বঞ্চনার অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, সরকারি কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সহ একাধিক ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত, তার ওপর এই নতুন নীতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতাদের অভিযোগ, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলে থাকার সময় স্মার্ট মিটারের বিরোধিতা করেছিলেন, অথচ এখন সেই মিটারই জোরপূর্বক সরকারি কর্মচারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একই সুর শোনা গিয়েছে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির গলাতেও। তাদের মতে, স্মার্ট মিটার সত্যিই জনমুখী ও লাভজনক হলে তা বলপূর্বক চাপানোর প্রয়োজন হতো না, সাধারণ মানুষ তা স্বেচ্ছায় গ্রহণ করত।
এই মামলার রায় রাজ্য সরকারের স্মার্ট মিটার বসানোর উদ্যোগের ক্ষেত্রে একটি বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। আদালত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয় কি না বা সরকারের নীতির বিষয়ে কী পর্যবেক্ষণ জানায়, তার ওপর নির্ভর করবে আগামী দিনে রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এই নতুন পদক্ষেপের ভবিষ্যৎ। এই আইনি লড়াই স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত রাজ্যব্যাপী চলমান বিতর্ককে আরও জোরালো করে তুলল।
