জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ধুন্ধুমার দিল্লি! ১৫০ জন আটক, বন্ধ ১১টি মেট্রো স্টেশন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গান্ধী জয়ন্তীর সকালে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেল দিল্লির যন্তর মন্তরে। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ছাত্র-যুব সংগঠনগুলির যৌথ বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চরম পদক্ষেপ করে দিল্লি পুলিশ। দিল্লির আপ (AAP) সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আটক করা হয়েছে সিপিএম নেতা তথা এসএফআই-এর (SFI) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যকেও। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রায় ১৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলেছে পুলিশ।
পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুক্রবার সকালে আইসা (AISA), এসএফআই, ডিওয়াইএফআই-সহ বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা যন্তর মন্তরে জমা হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। সকাল ৮টা নাগাদ আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ সেখানে পৌঁছতেই পুলিশ তাঁকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে। এর পরেই আপ কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। আপ বিধায়ক সঞ্জীব ঝা এবং দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতশী মার্লেনা পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে সঞ্জীব ঝাকেও আটক করে পুলিশ।
‘জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতেই হবে’, ভ্যান থেকে বার্তা সৃজনের বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লি গিয়ে আটক হন বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য। থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, “গোটা দেশে আজ তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতেই হবে, নয়তো এই প্রতিবাদ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।”
মেট্রো স্তব্ধ, সুরক্ষাবলয়ে মুড়েছে দিল্লি গান্ধী জয়ন্তীর দিন এই কর্মসূচির আহ্বান জানিয়েছিল ‘আইসা’, আরজেডি (RJD) সাংসদ মনোজ ঝা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। বিক্ষোভে একাধিক বিরোধী নেতার উপস্থিত থাকার কথা। পরিস্থিতি সামলাতে পুরো এলাকা ৮-৯টি সিকিউরিটি জোনে ভাগ করেছে দিল্লি পুলিশ। জায়গায় জায়গায় বসানো হয়েছে উঁচু ব্যারিকেড, মোতায়েন করা হয়েছে সিএপিএফ (CAPF)। নিরাপত্তার স্বার্থে সকাল ৭টা থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ১১টি মেট্রো স্টেশন।
