জ্বলে যাবে পুত্রবধূ, গৃহপ্রবেশের আগে শাশুড়ি কেন নিলেন নববধূর অগ্নিপরীক্ষা? জ্বলন্ত আগুনের ওপর দিয়ে হাঁটালেন খালি পায়ে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আধুনিক যুগেও কিছু প্রাচীন প্রথা আমাদের স্তম্ভিত করে দেয়। ছত্তিশগড়ের রায়গড় জেলার বिलासपुर গ্রামে সম্প্রতি তেমনই এক হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকলেন গ্রামবাসীরা। গন্ধেল গোত্রের ঐতিহ্য মেনে নবদম্পতি জয়প্রকাশ ও পুষ্পা রাঠিয়াকে বিয়ের পর গৃহপ্রবেশের আগে খালি পায়ে জ্বলন্ত কয়লার ওপর দিয়ে হাঁটতে বাধ্য করা হয়েছে। এই তথাকথিত ‘অগ্নিনৃত্য’ ও অগ্নিপরীক্ষা দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ।
অমানবিক প্রথা ও অদ্ভুত যুক্তি
এই রীতির পেছনে কাজ করছে এক চরম কুসংস্কার। স্থানীয়দের বিশ্বাস, যদি কনে তার বাপের বাড়িতে কোনো ক্ষতি করে আসে বা সে ‘অপবিত্র’ হয়, তবে এই ধকধকে লাল আগুনে তার পা পুড়ে যাবে। আর যদি সে পবিত্র হয়, তবে আগুনের শিখা তাকে স্পর্শ করবে না। শুধু তাই নয়, এই রীতি চলাকালীন বরের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় নির্জলা উপোস করে থাকেন। পরিবারের দাবি, এই কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন আরও দৃঢ় হয় এবং তারা আগামী জীবনের সকল বাধা মোকাবিলা করার শক্তি অর্জন করে।
আচার ও উৎসবের নামে ঝুঁকি
প্রথা অনুযায়ী, প্রথমে গ্রামের তান্ত্রিক বা পূজারি (বৈগা) জ্বলন্ত অঙ্গারের ওপর নেচে ওঠেন। এরপর মণ্ডপ কাপড় দিয়ে ঘিরে ফেলে দম্পতিকে আগুনের ওপর দিয়ে সাত পাক ঘোরানো হয়। এই অনুষ্ঠানে দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে দুটি ছাগল বলি দেওয়ার প্রথাও প্রচলিত। সৌভাগ্যক্রমে এই ঘটনায় নবদম্পতি শারীরিকভাবে বড় কোনো আঘাত পাননি, তবে এমন বিপজ্জনক আচার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এক ঝলকে
- ছত্তিশগড়ের রায়গড় জেলায় গন্ধেল গোত্রের বিয়েতে নবদম্পতিকে জ্বলন্ত অঙ্গারের ওপর দিয়ে হাঁটানো হয়েছে।
- কনের চারিত্রিক পবিত্রতা এবং বাপের বাড়ির কোনো ক্ষতি করার বিচার করতেই এই ‘অগ্নিপরীক্ষা’ নেওয়া হয়।
- রীতি চলাকালীন বরের পরিবারের সদস্যরা নির্জলা উপবাস পালন করেন এবং শেষে ছাগল বলি দেওয়া হয়।
- ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই কুসংস্কার ও জীবনের ঝুঁকির প্রশ্নে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
