জ্বালানির ধাক্কায় দিশেহারা বেসরকারি বাস, এবার কি তবে বাড়ছে ভাড়া! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ডিজেলের দাম লিটার-প্রতি ৩.১১ টাকা বৃদ্ধি পেতেই রাজ্যে বেসরকারি বাসের ভাড়া বাড়ানোর দাবি চরম আকার ধারণ করেছে। জ্বালানির এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির জেরে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন বেসরকারি বাস মালিকেরা। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে এবং দ্রুত ভাড়া পুনর্বিন্যাসের দাবিতে শুক্রবার রাজ্যের একাধিক বাসমালিক সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল পরিবহণ সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়।
কমিটির সুপারিশ বনাম দীর্ঘদিনের ক্ষোভ
পরিবহণ সচিবের সঙ্গে বৈঠকে বাসমালিকদের প্রতিনিধিরা রাজ্য সরকারের অতীতের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, অতীতে বাসের ভাড়া বৃদ্ধি বিবেচনা করার জন্য রাজ্য সরকার একাধিকবার উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করলেও, সেই কমিটির সুপারিশগুলো আজ পর্যন্ত কার্যকর করা হয়নি। মালিক সংগঠনগুলির দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দুই দফায় সরকার এই বিষয়ে কমিটি গঠন করেছিল। কিন্তু সেই কমিটির দেওয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ভাড়া বাড়ানোর কোনো বাস্তব পদক্ষেপ রাজ্য প্রশাসন গ্রহণ করেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই লোকসান চেপে ব্যবসা চালাতে হচ্ছে তাঁদের।
ভাড়া বৃদ্ধির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই সংকটের মূল কারণ হলো পরিচালন ব্যয়ের সাথে আয়ের চরম অসঙ্গতি। জ্বালানির দাম এক ধাক্কায় এতটা বেড়ে যাওয়ায় দৈনিক ট্রিপের খরচ এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি টায়ার, খুচরো যন্ত্রাংশ এবং কর্মীদের বেতনের খরচও ঊর্ধ্বমুখী। বাসমালিকদের দাবি, এই মুহূর্তে ভাড়া না বাড়ালে বাস চালানো সম্পূর্ণ আসাম্ভব হয়ে পড়বে।
যদি সরকার অনতিবিলম্বে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি মেনে না নেয়, তবে এর সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে চলেছে রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থার ওপর। মালিক সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, লোকসান কমাতে রাস্তা থেকে ধাপে ধাপে বেসরকারি বাস তুলে নেওয়া হতে পারে। আর এমনটা হলে চরম ভোগান্তির শিকার হবেন সাধারণ নিত্যযাত্রীরা। অন্যদিকে, ভাড়া বাড়ানো হলেও তার সরাসরি পকেট কাটবে আমজনতারই। ফলে, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধির জেরে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ এবং পরিবহণ ক্ষেত্র—উভয় পক্ষই এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
