জ্বালানি বিপ্লবে শামিল হতে তৈরি ইয়াহামা, ভারতে কি শীঘ্রই আসছে ১০০ শতাংশ ইথানলে চলা বাইক! – এবেলা

জ্বালানি বিপ্লবে শামিল হতে তৈরি ইয়াহামা, ভারতে কি শীঘ্রই আসছে ১০০ শতাংশ ইথানলে চলা বাইক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পরিবেশবান্ধব ও বিকল্প জ্বালানির বাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে ইয়াহামা মোটর ইন্ডিয়া। সম্প্রতি ব্রাজিলের বাজারে ১০০ শতাংশ ইথানল চালিত (ই১০০ কমপ্লায়েন্স) বাইক ‘ফ্যাক্টর ১৫০’ লঞ্চ করে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছে এই জাজল গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাটি। ভারতের বাজারেও বর্তমানে ই১০০ এবং ই৮৫ জ্বালানি প্রযুক্তির বাইক নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্র সরকার দূষণ কমাতে এবং আমদানির খরচ কমাতে পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার পর থেকেই গ্রাহকদের মনে প্রশ্ন জাগছে, কবে ভারতের রাস্তায় দেখা মিলবে ইয়াহামার এই পরিবেশবান্ধব বাইকের?

ভারতের বাজার নিয়ে ইয়াহামার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এই প্রসঙ্গে ইয়াহামা মোটর ইন্ডিয়ার সেলস বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রণবীর সিং জানান, সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ভারতে বিকল্প জ্বালানি প্রযুক্তি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। তবে ভারতের বাজারে এই বাইকগুলি বাণিজ্যিকভাবে নামানোর আগে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং সঠিক পরিবেশ তৈরি হওয়া জরুরি। সেই অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত হলেই নতুন প্রযুক্তি ভারতেও লঞ্চ করা হবে। বর্তমানে ভারতীয় বাজারে প্রিমিয়াম সেকশনে কো ম্পা নির মার্কেট শেয়ার প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৫ বছরে ভারতের ব্যবসা, উদ্ভাবন এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে ইয়াহামা আরও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ভারতে ‘স্মার্ট মোটর জেনারেটর’ সমৃদ্ধ বেশ কিছু হাইব্রিড মডেল বাজারে এনে দারুণ সাড়া ফেলেছে, যা চালকদের উন্নত মাইলেজ ও মসৃণ রাইডিংয়ের অভিজ্ঞতা দিচ্ছে।

ইথানল বিপ্লবের কারণ ও নেপথ্যের জলসঙ্কট আশঙ্কা

ভারত সরকার মূলত খনিজ তেলের ওপর থেকে আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং কার্বন নির্গমন হ্রাস করতে পেট্রোলের সঙ্গে ইথানল মিশ্রণের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। এই সরকারি নীতির কারণেই অটোমোবাইল সংস্থাগুলি ফ্লেক্স ফুয়েল ও ইথানল চালিত ইঞ্জিনের দিকে ঝুঁকছে। তবে এই পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতির পেছনে একটি বড় চ্যালেঞ্জও উঠে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথানল তৈরির মূল কাঁচামাল হলো আখ, ধান ও ভুট্টা, যা চাষ করতে বিপুল পরিমাণ জলের প্রয়োজন হয়। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১ লিটার ইথানল উৎপাদনে প্রায় ১০,০০০ লিটার জল খরচ হতে পারে। এর ফলে পরিবেশের সুরক্ষায় গ্রিন ফুয়েলের ব্যবহার বাড়লেও, দেশের ভূগর্ভস্থ জলসম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং ভবিষ্যতে তীব্র জলসঙ্কটের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *