টলিউডের ব্যান কালচার কি সত্যিই ৭২ ঘণ্টায় শেষ হবে?প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বড় বয়ান

টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা ‘ব্যান কালচার’ বা নিষিদ্ধ করার প্রথা নিয়ে বর্তমানে সরগরম স্টুডিও পাড়া। সম্প্রতি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শিল্পী ও কলাকুশলীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই আবহে অভিনেতা দেবের একটি পোস্ট এবং তার প্রেক্ষিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য টলিউডের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে নতুন মোড় দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও দেবের প্রতিশ্রুতি
গত ৭ এপ্রিল টেকনিশিয়ান স্টুডিওর সামনে দাঁড়িয়ে অভিনেতা দেব ঘোষণা করেছিলেন যে, টলিউড থেকে খুব শীঘ্রই ‘ব্যান কালচার’ উঠে যাচ্ছে। যারা গত দেড় বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে পারছিলেন না, তারা পুনরায় কাজে ফিরবেন। দেবের দাবি ছিল, এই বিষয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং প্রসেনজিৎ বিষয়টি ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করার দায়িত্ব নিয়েছেন। এরপরই দেব সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রসেনজিৎকে ট্যাগ করে ‘৭২ ঘণ্টা’ লিখে একটি পোস্ট করেন, যা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পাল্টা অবস্থান
রবিবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে আর্টিস্ট ফোরামের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই বিষয়ে মুখ খোলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। দেবের আবেগকে সম্মান জানালেও তিনি নিজের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তার প্রধান বক্তব্যগুলো হলো:
- ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা: প্রসেনজিৎ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দীর্ঘদিনের এই প্রথা বা ‘ব্যান কালচার’ তুলে দেওয়ার মতো ক্ষমতা বা যোগ্যতা তার একার নেই।
- আবেগ বনাম বাস্তবতা: দেবের ভাবনাকে তিনি পূর্ণ সমর্থন করলেও, সময়সীমা বেঁধে দেওয়া বা চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মতো বিষয়টিকে তিনি বাস্তবসম্মত মনে করছেন না।
- যৌথ লড়াই: রাহুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অভিনেতা এবং কলাকুশলীরা একত্রিত হয়েছেন মূলত ন্যায়বিচার এবং শিল্পীদের কর্মস্থলের নিরাপত্তার দাবিতে। এর সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো জেদ বা দাবিদাওয়া নেই।
মান-অভিমান ও পেশাদার সম্পর্ক
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছিল যে, এই ‘৭২ ঘণ্টা’র সময়সীমা বেঁধে দেওয়া নিয়ে দেব ও প্রসেনজিতের মধ্যে মান-অভিমান চলছে। তবে সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে প্রসেনজিৎ জানান, দেবের সঙ্গে তার প্রায় প্রতিদিন কথা হয় এবং তাদের মধ্যে কোনো তিক্ততা নেই। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই আন্দোলন মূলত রাহুলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ খোঁজা এবং ভবিষ্যতে শিল্পীদের কাজের পরিবেশ সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে।
প্রভাব ও বিশ্লেষণ
টলিউডের মতো একটি বড় সংস্থায় ‘ব্যান কালচার’ বা কাউকে কাজ করতে না দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। এটি কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে দ্রুত পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য মূলত সেই প্রশাসনিক জটিলতার দিকেই ইঙ্গিত করছে। অন্যদিকে, দেবের সাহসী উদ্যোগ ইন্ডাস্ট্রির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আশার আলো দেখালেও, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে, তা প্রসেনজিতের কথায় পরিষ্কার।
এক ঝলকে
- টলিউডে ‘ব্যান কালচার’ বন্ধে দেবের ৭২ ঘণ্টার ডেডলাইন নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
- প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান, এত দ্রুত এই প্রথা বন্ধ করার একক ক্ষমতা তার নেই।
- রাহুলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিচার ও শিল্পী সুরক্ষা নিশ্চিত করাই বর্তমান আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
- দেব এবং প্রসেনজিতের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই বলে অভিনেতা নিশ্চিত করেছেন।
